দুবাই: চলতি সংঘাতের মধ্যেই সমাধান সূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা। আগামীকাল শুক্রবার ওমানে আলোচনায় বসতে চলেছে আমেরিকা ও ইরান। বুধবার এমনই দাবি করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম। সেদেশের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ এবং তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আলোচনার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দু’পক্ষই। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছিল, তুরস্কে এই আলোচনা হতে পারে। তবে ইরানের তরফে তা ওমান বা পশ্চিম এশিয়ার কোনো দেশে সরানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বৈঠকে শুধুমাত্র পরমাণু প্রকল্প নিয়েই আলোচনা হবে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কোনো কথা হবে না। সেই কারণেই তাঁরা তুরস্কের বদলে ওমানে আলোচনায় বসতে চাইছেন।
এর আগেও পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ওমানে আলোচনায় বসেছিল তেহরান ও ওয়াশিংটন। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি নিয়ে অবশ্য ওমানের তরফে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আমেরিকার প্রতিক্রিয়াও জানা যায়নি। হোয়াইট হাউস অবশ্য বারবারই দাবি করেছে, তারা ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। সম্প্রতি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে ইরান। সেই আন্দোলনে সাহায্যের বার্তা দিয়ে সংঘাতে জড়ায় আমেরিকা। তার আগেও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময়ও ইরানের পরমাণুকেন্দ্রে বোমাবর্ষণ করেছিল মার্কিন সেনা। কিছুদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দেন, ইরানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক যুদ্ধজাহাজ। তবে, এরপরও আলোচনার পথ খোলা রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যেই মঙ্গলবার মার্কিন রণতরী লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকায় নথিভুক্ত ট্যাংকার জাহাজ ইরান আটকে দিয়েছে বলেও জানা যায়। এইসব ঘটনায় দুই দেশের আলোচনার উদ্যোগ ভেস্তে যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবিতে সেই আশঙ্কা দূর হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।