


তেহরান: শান্তি নয়, যুদ্ধ চাই! ট্রাম্পের আচরণে এমনটা স্পষ্ট হচ্ছে বারবার। সম্প্রতি ইরানের তরফে ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাতেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়েছেন, ‘কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।’ ফলে হরমুজ সংকট অব্যাহত থাকল। এদিকে, প্রণালী পেরোনোর জন্য বিশেষ শর্ত মানার কথা আগেই ঘোষণা করেছিল তেহরান। এবার স্পষ্টভাবে জারি হল নির্দেশিকা। সেখানে বিভিন্ন দেশের জাহাজ-ট্যাঙ্কার কোন নিয়ম মেনে হরমুজ পার করতে পারবে, তা উল্লেখ করা হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে অস্থির গোটা বিশ্ব। হরমুজে অশান্তির সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বাজারে। তাতেও কার্যত হেলদোল নেই ট্রাম্পের। সংকট পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, একে অন্যকে দোষারোপ করতেই ব্যস্ত আমেরিকা-ইরান। এই আবহে আমেরিকার কাছে ১৪ দফার শান্তি প্রস্তাব পাঠায় তেহরান। তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের জবাব পড়লাম। পছন্দ হয়নি—তা গ্রহণযোগ্য নয়!’ মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের দাবি, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশকে অন্য কোনো পদার্থের সঙ্গে মিশিয়ে তার ঘনত্ব কমিয়ে নিম্নমাত্রার ইউরেনিয়ামে পরিণত করা এবং বাকিটা তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো জবাবে তেহরান নাকি গ্যারান্টি চেয়েছে—আলোচনা ভেস্তে গেলে বা ওয়াশিংটন চুক্তি ছেড়ে দিলে সেই ইউরেনিয়াম ফেরত দিতে হবে। ট্রাম্প এসব বিস্তারিত প্রসঙ্গ উত্থাপন না করেই প্রস্তাব খারিজ করেন। পালটা জবাব দিয়েছে ইরানও। জানিয়েছে, নতুন করে হামলা হলে তারাও চুপ থাকবে না। সে দেশের রাষ্ট্রীয় টিভিতে সরকারের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ‘আমেরিকা যদি মনে করে ইরান আত্মসমর্পণ করবে, তাহলে ভুল ভাবছে। হরমুজে কারও দাদাগিরি সহ্য করা হবে না।’
একইসঙ্গে, হরমুজ পারাপারের শর্ত প্রকাশ করেছে তেহরান। শিপিং জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণালী পার হতে জাহাজগুলিকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। দিতে হবে নির্দিষ্ট টোল। সম্পূর্ণ ও সঠিক তথ্য ই-মেলে পাঠাতে হবে। যাচাইয়ের পর পরবর্তী নির্দেশ ই-মেলে জানানো হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে তার দায় আবেদনকারীর। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দেশকে বিশেষ ছাড়ের কথা না বললেও সতর্ক করেছে—যে দেশগুলি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলে, তাদের জাহাজের পারাপারে সমস্যা হতে পারে। সব মিলিয়ে হরমুজ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।