নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এযেন লঘু পাপে গুরুদণ্ড! তৃণমূল আমলে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে একটি গাড়ি সরাতে গিয়ে ভুলের কারণে চাকরি চলে গিয়েছিল। কারণ গাড়িটি ধাক্কা মারে তৎকালীন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ির দরজার সামনের গার্ডরেলে। বাড়ির গেটেও ধাক্কা লাগে। সেই কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল কর্তব্যরত পুলিশকর্মী ধীরেন্দ্রনাথ মাহাতকে। অভিযোগ অন্তত তেমনই। মঙ্গলবার সেই পুলিশ আধিকারিকের চাকরি ফেরত দেওয়া নিয়ে বর্তমান রাজ্য সরকারকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
২০০০ সালে কলকাতা পুলিশে গাড়িচালক হিসেবে চাকরি পান ধীরেন্দ্রনাথ। কিন্তু ২০০৫ সালে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তারপর থেকে তাঁকে গাড়ি চালানোর বদলে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হত। ২০২৩ সালে ৪ ডিসেম্বর তিনি অভিষেকের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে একটি মোবাইল টয়লেট ভ্যান সংক্রান্ত ডিউটিতে ছিলেন। সেই মোবাইল টয়লেট ভ্যান থেকে দুর্গন্ধ বার হচ্ছিল। যা নিয়ে অভিযোগ জানাতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেসময় ওই গাড়ির চালক ছিল না। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন ধীরেন্দ্রনাথ। তিনি নিজেই গাড়িটিকে সরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু গাড়িটি সরানোর সময় তিনি ভুল করে ব্যাক গিয়ার ব্যবহার করে ফেলেন। তার ফলে গাড়িটি গার্ডরেলে ধাক্কা মারে। ধাক্কা লাগে অভিষেকের বাড়ির প্রবেশ দ্বারেও। ওই ঘটনায় ধীরেন্দ্রনাথকে সাসপেন্ড করা হয়। পরে সেই সাসপেনশন প্রত্যাহার হলে, তিনি আবার কাজে যোগও দিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি ধীরেন্দ্রনাথকে ফের শো-কজ নোটিস দিয়ে জানতে চাওয়া হয়, কেন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না? এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই পুলিশকর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
এরপর তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। যাবতীয় বৃত্তান্ত শোনার পর বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থপ্রতিম রায়ের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ওই পুলিশকর্মী কাজে ভুল করেছেন। কিন্তু তাঁকে লঘু শাস্তি দেওয়াই যেত। এটা চাকরি যাওয়ার মতো ভুল নয়। এই ভুলের জন্য কেউ আঘাত পেয়েছেন, এমন অভিযোগও নেই। ফলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার মত কারণ নেই বলেই মনে করছে আদালত। এরপরই ওই পুলিশকর্মীর চাকরি ফেরাতে বর্তমান সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।