Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মুচলেকা দিয়ে রাজ্যে ফিরছেন বাংলাদেশি সন্দেহে আটক চার, ‘কোনও অত্যাচার করেনি ওড়িশা পুলিস’, বয়ানে বিতর্ক

‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ওড়িশার ভদ্রকে আটকে রাখা হয়েছিল বারাসতের চার শ্রমিককে। এই খবর জানাজানি হতেই তৎপর হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

মুচলেকা দিয়ে রাজ্যে ফিরছেন  বাংলাদেশি সন্দেহে আটক চার, ‘কোনও অত্যাচার করেনি ওড়িশা পুলিস’, বয়ানে বিতর্ক
  • ৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ওড়িশার ভদ্রকে আটকে রাখা হয়েছিল বারাসতের চার শ্রমিককে। এই খবর জানাজানি হতেই তৎপর হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অবশেষে শুক্রবার বাড়ি ফিরছেন তাঁরা। স্বস্তি ফিরেছে তাঁদের পরিবারে। তবে যেভাবে মুচলেকা লিখিয়ে তাঁদের ছাড়া হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ‘আমাদের উপর ওড়িশা পুলিস কোনও অত্যাচার করেনি’—এই মর্মে মুচলেকা দিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাঁদের। ওড়িশায় ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। এর আগেও বিজেপি শাসিত রাজ্যে এমন ঘটনা সামনে এসেছে। স্রেফ বাংলা বলার জন্য বাংলাদেশি তকমা দিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তার ঘটনা নিয়ে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক পরিসরও। সদ্য ঘরে ফেরা বারাসতের চার শ্রমিকও প্রশ্ন তুলেছেন, বাঙালিদের উপর বিজেপির এত আক্রোশ কেন? এই আবহে রাজ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্যদের চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওড়িশায় বাংলাভাষী শ্রমিকদের ধরপাকড় ও পুলিসি হেনস্তার প্রতিবাদে শুক্রবারই কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন তাঁরা। 

Advertisement

সপ্তাহখানেক আগে কদম্বগাছির কালসারার বাসিন্দা মফিজুল হক, ফারুক আহমেদ থান্ডার, নাসির আহমেদ থান্ডার ও দেগঙ্গার হাবিব জমাদার শাড়ি বিক্রির কাজে ওড়িশার ভদ্রকে যান। কয়েকদিন ধরে তাঁরা ওই এলাকায় ঘুরে ঘুরে শাড়ি বিক্রি করেন। বুধবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তাঁরা হোটেলের ঘরেই ছিলেন। আচমকাই ভদ্রক টাউন থানার পুলিস হোটেলে হানা দিয়ে বিভিন্ন কাগজপত্র খতিয়ে দেখতে শুরু করে। তখনই বাংলায় কথা বলার জন্য তাঁদের বাংলাদেশি বলে দেগে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ওই চারজনকে আটক করে রাখা হয়। তাঁরা ভারতীয় হওয়ার সমস্ত প্রমাণপত্র দেখালেও সমস্যা মেটেনি। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের দেওয়া হয়নি খাবার থেকে পানীয় জল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এনিয়ে ওড়িশার মুখ্যসচিবকে চিঠি লিখেন। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবারই চার শ্রমিকের বাড়িতে গিয়ে প্রামাণ্য নথিপত্র সংগ্রহ করে দত্তপুকুর ও দেগঙ্গা থানার পুলিস। ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন নথি যাচাই করা হয়। তারপর জেলা থেকে সেই রিপোর্ট যায় রাজ্যে। রাজ্য দ্রুত সমস্ত কাগজপত্র পাঠায় ওড়িশা প্রশাসনকে। শুক্রবার দুপুর ১টা নাগাদ পুলিস হেফাজত থেকে মুক্ত হন তাঁরা। পড়িমরি করে হোটেল ছাড়েন তাঁরা। পরিচিত ব্যবসায়ীদের থেকে টাকা ধার করে জরুরি ভিত্তিতে টিকিট কেটে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেন তাঁরা। ওড়িশা পুলিস তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। মফিজুল হক বলেন, ‘শুধু বাঙালি হওয়ার জন্য এরকম হেনস্তা হতে হবে, ভাবতে পারিনি। আমাদের ছাড়ার সময় ওখানকার থানা মুচলেকা লিখিয়ে নিল। আমাদের কেউ হেনস্তা করেনি বলে লিখতে বাধ্য হলাম। কিন্তু বাস্তবে আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। বাড়ি ফিরতে হবে, তাই কোনও বিরোধিতা করতে পারিনি।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ