Bartaman Logo
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রাক্তন তৃণমূলনেত্রী ও তাঁর পুত্রবধূকে গণধর্ষণ, অভিযুক্ত চার বিজেপি কর্মী

পটাশপুর থানার আড়গোয়াল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের প্রাক্তন নেত্রী ও তাঁর সদ্য বিবাহিত পুত্রবধূকে গণধর্ষণে অভিযুক্তরা বিজেপি কর্মীরা।

প্রাক্তন তৃণমূলনেত্রী ও তাঁর পুত্রবধূকে গণধর্ষণ, অভিযুক্ত চার বিজেপি কর্মী
  • ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পটাশপুর থানার আড়গোয়াল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের প্রাক্তন নেত্রী ও তাঁর সদ্য বিবাহিত পুত্রবধূকে গণধর্ষণে অভিযুক্তরা বিজেপি কর্মীরা। ওই নেত্রীর স্বামী পেশায় বাস কন্ডাক্টর। তিনি কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকেন। তাঁর ছেলে কর্মসূত্রে গুজরাতে থাকেন। বাড়িতে শাশুড়ি ও বউমা দু’জনে ছিলেন। সেই সুযোগ নিয়ে শনিবার গভীর রাতে ভূপতিনগর থানার নাড়ুয়াবিলা গ্রাম থেকে বিজেপি নেতা বিমল গায়েন ও দলের কর্মী শংকর ভুঁইয়া, পিন্টু জানা ও তাপস মণ্ডল ওই বাড়িতে গিয়ে শাশুড়ি ও বউমার হাত-পা বেঁধে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থানায় এফআইআর হতেই অভিযুক্ত চারজন গাঢাকা দিয়েছে। তারা ওড়িশা চলে গিয়েছে বলে অনুমান। বিমল নাড়ুয়াবিলা গ্রামের বিজেপির বুথ কমিটির নেতা। বাকিরা ওই গ্রামের সক্রিয় কর্মী হিসাবে পরিচিত। পটাশপুর থানার ওসি কর্তার সিং বলেন, ওই ঘটনায় এফআইআর হয়েছে। আমি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অভিযানে রয়েছি। জানা গিয়েছে, রাত ১টা থেকে ২টোর মধ্যে নাড়ুয়াবিলা গ্রাম থেকে ওই দুষ্কৃতীরা লাগোয়া পটাশপুর থানার আড়গোয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের টনিয়াবিলা গ্রামে যায়। বাড়ির রান্নাঘরের জানালা উপড়ে তারা ঘরের ভিতরে ঢোকে। শাশুড়ি ও বউমা দু’জনে দু’টি ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। দুষ্কৃতীরা দু’টি রুমে গিয়ে দু’জনের হাত ও পা শাড়ি দিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। যাতে চিৎকার না করতে পারে সেজন্য মুখের ভিতর শাড়ি গুঁজে দেয়। তারপর দু’টি ঘরের ভিতর শাশুড়ি ও পুত্রবধূর উপর পাশবিক অত্যাচার চলে। সারারাত দু’জনেই সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন। সকালবেলায় তাঁদের জ্ঞান ফেরে। প্রাক্তন ওই তৃণমূল নেত্রীর পুত্রবধূ নিজের একটা হাতের বাঁধন কোনোরকমে খুলে বাইরে বেরিয়ে এসে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা আসেন। তাঁদের উদ্ধার করে মুগবেড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দু’জনের শরীরে নখ দিয়ে আঁচড় দেওয়ার দাগ রয়েছে। হাসপাতাল থেকে ওই প্রাক্তন নেত্রী থানায় গিয়ে এফআইআর করেন। গোড়ার দিকে এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। সোমবার রাতে স্থানীয় মহিলারা দলবেঁধে মশাল হাতে ওই ঘটনার প্রতিবাদে টনিয়াবিলা গ্রামে মিছিল করেন। তারপর ঘটনা জানাজানি হয়।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ