নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যুদ্ধ এবং আর্থ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব গোটা বিশ্বেই পড়েছে। কিন্তু তারপরও বিশ্বে বৈদেশিক বাণিজ্য গত অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে বেড়েছে ২.৯ শতাংশ হারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কমনওয়েলথ দেশগুলি যেভাবে এগিয়ে গিয়েছে, তার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ভারত। বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমনটাই জানালেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ফরেন ট্রেডের (আইআইএফটি) কলকাতা ক্যাম্পাসের প্রধান কে রঙ্গরাজন। তিনি বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা মেনে নিয়েই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে হবে, এই সারকথা মেনে নিয়েছে ব্যবসায়িক মহল। তাই তারা দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে পারছে। কমনওয়েলথ দেশগুলি আন্তর্জাতিক ব্যবসা বাড়াতে পেরেছে ৪.৪ শতাংশ হারে। সেখানে ভারত এগতে পেরেছে দু’শতাংশ হারে।’ রঙ্গরাজনের কথায়, ‘এই সমস্যা কাটাতে ভারতকে আরও নিবিড়ভাবে রপ্তানি সম্পর্কিত চিন্তাভাবনা বাড়াতে হবে। ভারত তার পণ্য রপ্তানির জন্য ইউরোপ এবং আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলিকেই চিরাচরিতভাবে পাখির চোখ করে আসছে। সাম্প্রতিক অস্থিরতার পরও তাদের নজর, বিশেষত এমএসএমই শিল্প ক্ষেত্রগুলির নজর সেই বাজারগুলিতেই। তা না করে ভারত যদি আফ্রিকা ও কমনওয়েলথ-এর দেশগুলির দিকে নজর দেয়, তাহলে রপ্তানি বাড়বে। কারণ, ইউরোপ এবং আমেরিকার বাজার শুধুই যে সঙ্কুচিত হয়ে আসছে, তা নয়। সেখানে প্রতিযোগিতা এতটাই বেশি, ভারতীয় ছোট শিল্পগুলির ক্ষেত্রে সেই প্রতিযোগিতায় এঁটে ওঠাও কঠিন।’ গোটা বিশ্বে পণ্য রপ্তানির যে বাজার, ভারত তার মাত্র ১.৮ শতাংশ দখল করে আছে বলেও জানান তিনি। সেই বাজার বাড়াতে হলে নতুন জায়গা খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি পণ্যের ধরন বদলানোও জরুরি। এদিনের অনুষ্ঠানে রঙ্গরাজন আরও বলেন, ‘আমেরিকা যেভাবে শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেছে, তার ফলাফল সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করে দেবে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির জন্য। কারণ, এই শুল্ক যুদ্ধে পণ্য আমদানি-রপ্তানির চেনা আন্তর্জাতিক করিডরগুলি ডুববে। উন্নত দেশ থেকে চীন এবং রাশিয়ামুখী পণ্যের যাত্রা আর সেভাবে সফল হবে না। তাই তুলনামূলক ঝুঁকিবিহীন পণ্য করিডেরের উত্থান হবে। সেক্ষেত্রে ভারতও সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে।’



