নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে সঙ্কটে পড়েছে নদীয়া জেলা প্রশাসন। বুথ লেভেল অফিসার নিয়োগ নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছে প্রশাসন। জেলায় মোট ৪৬৮৬টি বুথ থাকলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৬২ শতাংশ বুথ লেভেল অফিসার নিযুক্ত করা হয়েছে। হিসেব অনুযায়ী, প্রায় তিন হাজার বিএলও নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এখনও প্রায় দুই হাজার বিএলও পদ শূন্য রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক শূন্যপদ পূরণ করতেই হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। যদিও জেলাশাসক এস অরুণ বলেন, সমস্ত বুথে বিএলও নিযুক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে।
এতদিন পর্যন্ত বিএলও পদে প্যারাটিচার, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সহ বিভিন্ন চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মীদের কাজে লাগানো হতো। কিন্তু, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তা বতিল করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও চুক্তিভিত্তিক, অস্থায়ী বা সাময়িক কর্মীকে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। যেমন মনোনয়নপত্র গ্রহণ, যাচাই, প্রিসাইডিং অফিসারের ভূমিকায় তাঁদের রাখা যাবে না। কেবলমাত্র স্থায়ী ও নিয়মিত কর্মীরাই এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, বিএলও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম অগ্রাধিকার পাবেন রাজ্য সরকারের গ্রুপ-সি বা তার উপরের স্থায়ী কর্মচারী এবং স্থানীয় পুরসভা বা পঞ্চায়েতের স্থায়ী কর্মীরা। তবে যদি এমন কর্মী না পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বা চুক্তিভিত্তিক শিক্ষককে বিএলও হিসেবে নিযুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তাও নির্দিষ্ট অনুমতির ভিত্তিতে।
নির্বাচন কমিশনের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল বিএলও পদে যাঁকে নিযুক্ত করা হবে, তাঁকে সংশ্লিষ্ট বুথের ভোটার হতে হবে। তবে অনেক ক্ষেত্রে বুথ এলাকায় বসবাসকারী উপযুক্ত সরকারি কর্মচারী না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে প্রশাসনকে। যদি কোনও বুথে সরকারি কর্মী না পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে পাশের বুথের ভোটার গ্রুপ-সি বা তার থেকে উচ্চ পদমর্যাদার কর্মীকে বিএলও হিসেবে নিযুক্ত করার অনুমতি রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার ও ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারের(জেলাশাসক) স্বাক্ষরযুক্ত ‘নন অ্যাভেলিবিলিটি সার্টিফিকেট’ নিয়ে তা রাজ্যের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে নদীয়া জেলা প্রশাসন। এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, স্থায়ী সরকারি কর্মীর সংখ্যা সীমিত। এত সংখ্যক বিএলও নিযুক্ত করা একাধিক দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া অসম্ভব। আর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই আমাদের কাজ করতে হবে।
এরমধ্যে জেলাজুড়ে বুথের সংখ্যা বাড়তে চলেছে। নদীয়া জেলার ১৭টি বিধানসভা এলাকায় ৪০ থেকে ৫০টি করে বুথ বাড়বে বলে জানা গিয়েছে। সদ্য উপ নির্বাচন হওয়া কালীগঞ্জ বিধানসভায় ইতিমধ্যেই ৪৮টি বুথ বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১২০০ ভোটার থাকলেই সেটিকে নতুন বুথ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। আগে এই সংখ্যাটা ছিল ১৫০০। অর্থাৎ জেলাজুড়ে সাতশোর বেশি বুথ বাড়তে চলেছে। তখন নদীয়া জেলার বুথের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। এই অতিরিক্ত বিএলও নিযুক্ত করা কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।