নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে নয়া নিয়োগ ঘিরে মতবিরোধ খোদ শীর্ষ আদালতের কলেজিয়ামের অন্দরেই! বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অলক আরাধে ও পাটনা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির নাম সুপারিশ করে সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কলেজিয়াম। যদিও বিচারপতি পাঞ্চোলির নামে কলেজিয়ামে ঐক্যমত্য ছিল না বলে খবর। তাঁর নামে আপত্তি তোলেন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতিকে নিয়ে গড়া কলেজিয়ামের অন্যতম সদস্য বিচারপতি বি ভি নাগরত্না। লিখিতভাবে সেই আপত্তি (ডিসেন্ট নোট) জানিয়েছেন তিনি।
বিচারপতি নাগরত্নার বক্তব্য, গুজরাত হাইকোর্ট থেকে ইতিমধ্যেই দু’জন বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টে এসেছেন। তাঁরা হলেন বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং এন ভি আনজারিয়া। গুজরাত হাইকোর্ট থেকেই পাটনায় বদলির পরই তড়িঘড়ি বিচারপতি পাঞ্চোলিকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগের সুপরিশ করা হয়েছে। এর ফলে গুজরাত হাইকোর্টের তৃতীয় বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টে আসবেন। যার জেরে শীর্ষ আদালতে আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব বিঘ্নিত হতে পারে। তা ভুল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কাও রয়েছে। সেইসঙ্গে কলেজিয়ামের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হতে পারে। বিচারপতি নাগরত্না আরও উল্লেখ করেছেন, এই পদোন্নতি হলে বিচারপতি পাঞ্চোলি ২০৩১ সালের অক্টোবরে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির অবসরের পর দেশের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন। প্রায় দু’বছর তিনি ওই পদে থাকবেন।
বিভিন্ন হাইকোর্টের ১৪ বিচারপতির বদলি ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গুজরাত হাইকোর্টের দুই বিচারপতি সন্দীপ এন ভাট এবং সি এম রায়কে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে যথাক্রমে মধ্যপ্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টে। এই সুপারিশের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন গুজরাত হাইকোর্টের আইনজীবীরা। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। প্রতিবাদী আইনজীবীদের অভিযোগ, যুক্তিসঙ্গত কোনও কারণ ছাড়াই এই বদলির সুপারিশ করেছে কলেজিয়াম।