Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

জিএসটি কমিয়েও চাল, ডাল ও তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ কেন্দ্র

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আশঙ্কা ও আভাসই সত্য‌ হচ্ছে। আবারও মূল্যবৃদ্ধির আঁচ বাজারে। জিএসটি কমানো হয়েছে। এর জেরে নিত্যপণ্য, ভোগ্যপণ্য এবং অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম কমে যাবে বলে এক মাস ধরে প্রবল প্রচার করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর সরকার।

জিএসটি কমিয়েও চাল, ডাল ও তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ কেন্দ্র
  • ৫ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আশঙ্কা ও আভাসই সত্য‌ হচ্ছে। আবারও মূল্যবৃদ্ধির আঁচ বাজারে। জিএসটি কমানো হয়েছে। এর জেরে নিত্যপণ্য, ভোগ্যপণ্য এবং অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম কমে যাবে বলে এক মাস ধরে প্রবল প্রচার করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর সরকার। বহু পণ্যের দাম কমছেও। কিন্তু কেন্দ্র অথবা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের যে উদ্বেগ দীর্ঘ চার বছরেও কমেনি, যে প্রবণতা এখনও বিদ্যমান এবং মোটেই কমার লক্ষণ নেই, সেটি হল খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি। মহারাষ্ট্র থেকে উত্তরপ্রদেশ, বিহার অথবা হরিয়ানা এবং পাহাড়ি তিন রাজ্য জুলাই মাস থেকে প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত। আর সেই কারণ দেখিয়েই খাদ্যের পাইকারি ব্যবসায়ী থেকে জোগানদাররা এক ধাক্কায় বিভিন্ন নিত্যদিনের খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আর তাই উৎসবের মরশুমে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ফের দিশাহারা। দশমী পেরিয়ে সাধারণ মানুষ সবেমাত্র আজ যাবে লক্ষ্মীপুজোর বাজারে। কিন্তু বিগত ৪৮ ঘণ্টার বাজারের গতিপ্রকৃতি যথেষ্ট দুঃসংবাদবাহী। ফুল, ফল, সবজি, তেল, চাল-ডাল সবই ঊর্ধ্বমুখী। আমিষ খাদ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে নবরাত্রির পর। ইঙ্গিত স্পষ্ট—জিএসটি কমিয়েও চাল-ডাল-তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ মোদি সরকার।

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে ঘোষণা করেছিলেন, এবার উৎসব হল জিএসটি কমের যাওয়ার উৎসব। কিন্তু সেই স্লোগানকে ম্লান করে উৎসবের মরশুম শুরু হতেই খাদ্যদ্রব্যের দামের ভ্রূকুটিতে আগুন লেগেছে বাজারে। পশ্চিম ভারতের গণেশ চতুর্থী থেকে উত্তর ভারতের নবরাত্রি, পূর্ব ভারতের দুর্গাপুজো এবং দেশজুড়ে দশেরা উৎসব সবেমাত্র সমাপ্ত হয়েছে। সামনেই দীপাবলি, ভাইফোঁটা, ছটপুজো। অথচ দশেরার পর থেকেই বিশেষ করে সবজির দাম দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বাজারে আকাশছোঁয়া। জিএসটির দুই ধাপ অবলুপ্ত করে মানুষকে প্রভূত সুরাহা করে দেওয়ার প্রচার লাগাতার সরকারিভাবে চলছে। তার মধ্যেই এভাবে সবজি এবং চাল-ডাল, তেলের মতো নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে পারছে না কেন্দ্র। দাম যে আর শীঘ্রই কমানোর কোনও নিশ্চয়তা সরকার দিতে পারবে না, সেটাও স্পষ্ট। কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, অতিবর্ষণে বহু ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার রিপোর্ট এসেছে তাদের কাছে। আর পাইকারি ব্যবসায়ীদের অজুহাত, পরিবহণ ব্যবস্থা ধাক্কা খেয়েছে। বহু স্থানে সময়মতো স্টোরেজে খাদ্যপণ্য আসতে পারেনি। হয় জলে নষ্ট হয়েছে, অথবা সড়ক জলমগ্ন হওয়ায় রাস্তায় নষ্ট হয়েছে। প্রায় ৩০ শতাংশ দাম বেড়েছে পেঁয়াজ, টমেটোর। সবজির দাম অগ্নিমূল্য। অক্টোবর মাসে জম্মু থেকে পাঠানকোট হয়ে ফল আসে দিল্লিতে। উত্তরপ্রদেশেও যায়। উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল থেকে সাপ্লাই বন্ধ। অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে জম্মু থেকে আগত একের পর এক ট্রেন বাতিল হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এগ্রিকালচার প্রোডিউস মার্কেট কমিটির থেকে পাওয়া রিপোর্ট পেয়ে কেন্দ্র জানতে পারছে, শহরাঞ্চলে ৭৫ শতাংশ কৃষি পণ্যই আসে গ্রামীণ এলাকা থেকে। বেশ কিছু রাজ্যে সেই সাপ্লাই চেইন আটকে গিয়েছে। সেটাই নাকি দামবৃদ্ধির কারণ। নবরাত্রির সময় আমিষ খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু তারপরই আবার ঊর্ধ্বমুখী। ডিম, মাছ, মাংসের দাম বিগত ৪৮ ঘণ্টায় বাড়তে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকে রেপো রেট কমানো হয়নি। কারণ একটাই। গভর্নরের শঙ্কা, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগবে। তাই ঝুঁকি নিচ্ছেন না তাঁরা। সেই শঙ্কা এখন ঘোর বাস্তব!

সম্পর্কিত সংবাদ