সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত কৃষিক্ষেত্রে চাষবাসের সুযোগ ছিল। তাই গ্রামাঞ্চলে ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি প্রকল্পে কাজ পাওয়ার চাহিদা সামান্য কমছিল। কিন্তু আর্থিক বছরের শুরু থেকে ফের ভয়াবহ বেকারত্ব গ্রামীণ ভারতে। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে রিপোর্ট এসেছে সেখানে দেখা গিয়েছে, এপ্রিল মাসে সবমিলিয়ে ২ কোটির বেশি পরিবার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে কাজের আবেদন করেছে। মার্চের তুলনায় তা এক ধাক্কায় ২১ লক্ষেরও বেশি। মার্চ মাসে আবেদনকারী পরিবারের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮০ লক্ষ। চলতি মে মাসেও এই ধারা অব্যাহত। মে মাসের ১৮ তারিখ পর্যন্ত সেই সংখ্যা ২ কোটি ৩৭ লক্ষে পৌঁছে গিয়েছে। ফলে মে মাস সম্পূর্ণ হলে, তা আরও অনেক বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের প্রবণতা হল, যখন কৃষিকাজের মরশুম থাকে না, সেই সময় গ্রামাঞ্চলে ১০০ দিনের কাজের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। গত বছরের মে মাসে ২ কোটি ৭০ লক্ষ পরিবার ১০০ দিনের কাজের জন্য আবেদন করেছিল। সেটা ধীরে ধীরে কমে সেপ্টেম্বর মাসে ১ কোটি ৬৫ লক্ষ পরিবারে নেমে আসে। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক এখন থেকেই অর্থমন্ত্রককে এই প্রবণতা জানিয়ে রিপোর্ট পাঠিয়েছে। এবার বাজেটে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের বরাদদ ৮৬ হাজার কোটি টাকাই রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালের বাজেট ঘোষণায় যে অঙ্ক ধার্য হয়েছিল, সেই একই অঙ্ক রাখা হয়েছে এবারও। এক টাকাও বাড়ানো হয়নি। অথচ ৮৬ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে বিগত আর্থিক বছরে। এবার তাই আগেভাগেই জানানো হয়েছে অর্থমন্ত্রককে। কিন্তু আর্থিক বছরের শুরু থেকেই বিপুলভাবে কাজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেলেও এবারও সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দেখতে চায় অর্থমন্ত্রক। অর্থমন্ত্রক থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দেখে তারপর রিভিউ করা হবে। অর্থাৎ আর্থিক বছরের দুটি ত্রৈমাসিকের প্রবণতা দেখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদিও অর্থমন্ত্রক মনে করছে, এবারও বর্ষার মরশুম থেকেই আবার ১০০ দিনের কাজের চাহিদা কমতে থাকবে। কারণ কৃষিক্ষেত্রে বাড়বে কাজের সুযোগ। কিন্তু কৃষি থাকলে গ্রামীণ ভারতে কাজ থাকবে, আর চাষবাসের সুযোগ কমে গেলেই এক ধাক্কায় কমে যাবে কর্মসংস্থান, এটা অর্থনীতির জন্য সুসংবাদ নয়। অথচ এই প্রবণতা বছরের পর বছর ধরেই চলছে।



