Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

সাজিয়ে তুলুন মা লক্ষ্মীর বেদি

লক্ষ্মী দেবী বামে করি বসি নারায়ণ/ সুখে দুঃখে কত কথা করেন আলাপন’— মাঝে মাত্র একটা দিন। তারপরেই লক্ষ্মী পুজো। ঘর গোছানোর পর্ব তো রয়েইছে, তার উপর আবার পুজোর সাজ সরঞ্জাম কেনাকাটা, ঠাকুরের আসন গোছানো, পুজোর জায়গা সাজানো সবই তো করতে হবে নিজের হাতে। আর সেই কাজে একটুও ফাঁকি থাকলে চলবে না। এই কাজ কীভাবে সারবেন, রইল তার পরামর্শ।

সাজিয়ে তুলুন  মা লক্ষ্মীর বেদি
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

•‘লক্ষ্মী দেবী বামে করি বসি নারায়ণ/ সুখে দুঃখে কত কথা করেন আলাপন’— মাঝে মাত্র একটা দিন। তারপরেই লক্ষ্মী পুজো। ঘর গোছানোর পর্ব তো রয়েইছে, তার উপর আবার পুজোর সাজ সরঞ্জাম কেনাকাটা, ঠাকুরের আসন গোছানো, পুজোর জায়গা সাজানো সবই তো করতে হবে নিজের হাতে। আর সেই কাজে একটুও ফাঁকি থাকলে চলবে না। এই কাজ কীভাবে সারবেন, রইল তার পরামর্শ।
• তালিকা নির্দিষ্ট করুন
ঠিক কী কী কাজ করবেন তার একটা পরিকল্পনা ছকে নিন। সেই পরিকল্পনা মাফিক কাজ সারতে থাকুন। প্রথমত বাজারের তালিকা বানিয়ে ফেলুন। পুজোর জন্য যা যা লাগবে তার লিস্ট করে রাখলে দেখবেন বাজার করতে সুবিধে হবে। পুজোর জিনিসের আবার কয়েকটি ভাগ থাকে। দশকর্মার আয়োজন, কাঁচা বাজার, ফল, মিষ্টি ইত্যাদি। যে জিনিস নষ্ট হওয়ার ভয় নেই তা আগে থাকতে কিনে রাখতে পারেন। পরে গিয়ে একসঙ্গে অনেক বাজার করার ঝামেলা থাকবে না। পুজোর আনাজ, ফল, মিষ্টি, ফুল, মালা এগুলো কিনুন শেষবেলায়।
পুজোয় যে সব বাসন লাগবে তা আগে থেকে গুছিয়ে নিন। ধুয়ে মেজে পরিষ্কার করে রাখুন। যদি দেখেন কোনও কিছু খুঁজে পাচ্ছেন না, তাহলে সময় থাকতে তার খোঁজ করুন। পুজোর এমন অনেক বাসন থাকে যা রোজের ব্যবহারে কাজে লাগে না। পুজোর সময় ট্রাঙ্ক থেকে বের করা হয়। ফলে প্রতিদিনের কাজে হিসেবও থাকে না সবসময়। শেষ মুহূর্তে বাসন গোছাতে বসলে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে না পাওয়ার বিপত্তি বাড়তে পারে। তা এড়াতে আগে থেকেই পুজোর বাসন গুছিয়ে নেওয়া ভালো। এতে কোনও দরকারি বাসন খুঁজে না পেলে তা সত্বর কিনে নেওয়ার সময় পাবেন।
• পুজোর ফুল
লক্ষ্মী দেবী কমলাসনা। তাঁর পুজোয় একটু পদ্মফুলের আয়োজন রাখতে পারেন। সাধারণভাবে বাঙালি গৃহস্থ বাড়িতে সাদা ফুল ও গাঁদা ফুল লক্ষ্মী পুজোয় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু একটু ভিন্ন ধরন আনতে পদ্ম দিয়ে সাজান লক্ষ্মী দেবীর বেদী। মা লক্ষ্মীকে যেখানে বসাবেন তার চারদিক দিয়ে গোল করে পদ্মের পাপড়ি ছড়িয়ে দিন। চাইলে দেবীর বেদির সামনে আলপনাতেও খড়ি মাটির সঙ্গে পদ্ম ফুলের পাপড়ি মিশিয়ে দিতে পারেন।
হলুদ আর কমলা রঙের গাঁদা ফুলের মালা দিয়ে ঠাকুরের আসনের সামনে বা ধারে খানিকটা অংশ সাজিয়ে দিন। এক্ষেত্রে হলুদ আর কমলা গাঁদা একের পাশে অন্যটা রাখবেন। দারুণ লাগবে পুজোর বেদি। যদি ঠাকুর ঘরে পুজো করেন তাহলে দরজার পাশ দিয়েও মালাগুলো লম্বালম্বি ঝুলিয়ে দিন। অন্য রকম লাগবে ঘরটা।
• আলপনার বৈচিত্র্য
লক্ষ্মী পুজোয় আলপনা থাকবে না তাও কি সম্ভব! কিন্তু প্রশ্ন হল কীভাবে একটু অন্যরকম চেহারা দেবেন এই আলপনায়? লক্ষ্মী পুজোয় গতানুগতিক স্টাইল অনেকেই পছন্দ করেন। সেই চরিত্র বজায় রেখেও কীভাবে একটু নতুনত্ব আনা যায় সে কথাই বরং বলি।
খড়ি মাটি জলে ভিজিয়ে না রেখে শুকনোই রাখুন। তা দিয়ে মেঝের উপর একটা আলপনার নকশা এঁকে নিন। এবার এই নকশায় রং ভরে দিন। তার জন্য পোস্টার কালার ব্যবহার করতে পারেন, গুঁড়ো রং জলে গুলে তা দিয়ে নকশা ভরাট করতে পারেন অথবা ব্যবহার করতে পারেন রক্ত চন্দন। শেষেরটি যদি ব্যবহার করতে চান তাহলে তা নিজে হাতে না বেটে বরং রক্ত চন্দনের গুঁড়ো কিনে জলে গুলে নিন। তাতে ঘনত্ব নিজের প্রয়োজন মতো কমবেশি করা সহজ হবে। যদি পোস্টার কালার ব্যবহার করেন তাহলে তার সঙ্গে একটু রং স্থায়ী করার জন্য সাদা আঠা মিশিয়ে নিন। তবে লক্ষ্মী পুজোয় অনেকেই সাদা আলপনা পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে চক দিয়ে আলপনার আউটলাইন এঁকে নিন। তারপর ঘন করে খড়িমাটি গুলে তা ভরে ফেলুন। খড়িমাটি গোলায় অল্প রক্ত চন্দন বেটেও মেশাতে পারেন। এতে একটু লালচেভাব আসবে আলপনায়।
 পুজোর সরঞ্জাম
মা লক্ষ্মীকে পঞ্চব্যঞ্জন সাজিয়ে পুজোর আয়োজন করতে চাইলে মাটি, কাঠ, তামা ও কাঁসার বাসন ব্যবহার করতে পারেন। মাটির পাত্রের ক্ষেত্রে 
ছোট-বড় নানা ধরন রাখুন হাতের কাছে। মাটির বড় বা মাঝারি মাপের থালার চারদিক দিয়ে সূক্ষ্ম রেখায় আলপনা এঁকে দিন। কলকা নকশা এক্ষেত্রে খুবই সুন্দর লাগে। নাড়ু বা অন্য কোনও মিষ্টি যদি মাটির পাত্রে রাখতে চান, তাহলে একটু বড় ছড়ানো মালসার মতো বাটি ব্যবহার করুন। তার গায়েও আলপনা আঁকুন। একেবারেই ভিন্ন একটা লুক আসবে। কাঠের বারকোশ বা পুজোর থালায় একটু হলুদ, নীল ইত্যাদি পোস্টার কালার দিয়ে বর্ডার আঁকতে পারেন। একটু অন্যরকম লাগবে দেখতে। পুজোর ফুল ও অন্যান্য সামগ্রী থাকবে ঠাকুরের বাঁ দিকে। খাবার ও জল থাকবে দেবীর ডান দিকে। কাঠের বারকোশে মিষ্টি, দই, মঠ, কদমা সাজিয়ে দিন। ফুল রাখুন তামার থালায়। ধূপের গন্ধে ভরিয়ে তুলুন চারপাশ। পূজার মূল উপচার ভক্তিভাব থাকুক মায়ের আরাধনায়।
                             

Advertisement

কমলিনী চক্রবর্তী
ছবি: অতূণ বন্দ্যোপাধ্যায়

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ