আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।
আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।
না এবার আর দূরে কোথাও নয়। আমাদের দেশেই এমন একটা সমুদ্রতটের সন্ধান দেব যেখানে সন্ধের পর থেকেই ফিসফিস শব্দ শোনা যায়। ভাবছ তো এ আর এমন কী? কিন্তু এই ফিসফিস ধ্বনির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আসল রহস্য। এই সমুদ্রতটের অবস্থান গুজরাতের সুরাট অঞ্চলে। আরব সাগরের তীরের এই সমুদ্র সৈকতটি সুরাট শহর থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে। সাধারণভাবে ব্যস্ত শহর সুরাটের একেবারে নিরিবিলি অঞ্চলে এই ডুমাস সি বিচ। আর সেখানেই নাকি সন্ধে পর থেকে শুরু হয় ফিসফিস শব্দ, কানাকানির আওয়াজ। পর্যটকরা প্রথম প্রথম এইসব শব্দকে শোনার ভুল বলে এড়িয়ে যেতে চাইতেন। কিন্তু ক্রমাগত এই আওয়াজ শোনার পর আর তা উড়িয়ে দেওয়া যায়নি। তার উপর আবার সময়টাও ভূতুড়ে। ঠিক সন্ধে নামার পর থেকে শুরু হয় কানাকানি, ফিসফিস। যেন কেউ তোমাকে ডাকছে বা নিজেদের মধ্যেই কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। এদিকে ঘাড় ঘুরিয়ে চারদিক দেখতে যাও, দেখতে পাবে না কিচ্ছু। একেবারে নিশ্চুপ নিস্তরঙ্গ চারপাশ। বেশ একটা গা ছমছমে ভাব দেখা দিচ্ছে তো মনে মনে? সুরাটে বেড়াতে আসা বহু পর্যটকেরই তেমনটা হয়েছিল। সেই কারণেই এই বিষয়টি নিয়ে গভীরে খোঁজখবর শুরু হয়। জানা গিয়েছে, এই সমুদ্রতটেই একসময় ছিল কবরস্থান। তবে, পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এখানে কবর দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ক্রমশ তা পর্যটকদের বিচরণভূমি হয়ে ওঠে। এই কবরস্থানের বিষয়টি জানাজানি হতেই ডুমাস বিচ ঘিরে ভৌতিক গল্প আরও ছড়িয়ে পড়তে থাকে। যারা ভূতে বিশ্বাস করে তাদের দাবি, এখানে আত্মারা যাতায়াত করে। সারাদিন একরকম কেটে যায়। তারপর সূর্য পাটে নামলে, চারদিক যখন অন্ধকারে ঢেকে যায় তখনই শুরু হয় তেঁনাদের আনাগোনা। ফিসফিস অস্পষ্ট কথা, হঠাৎ হাওয়ার দাপট সবই চলে এই অঞ্চল জুড়ে। আর সেই কারণেই এই অঞ্চলটাকে ডেড বিচ বলে ধরা হয়। অর্থাৎ মৃতদের সৈকত। দীঘা, পুরীর সমুদ্র সৈকতের মতো সন্ধেবেলা এই বিচ জমজমাট থাকে না। ভূতের আতঙ্কে পর্যটকরা বিচ খালি করে দেন। তবে,এই ফিসফিস শব্দ বা দমকা হাওয়ার রহস্যের সমাধান করা আজও সম্ভব হয়নি। সবটাই লোকের বিশ্বাস উপর ভিত্তি করে সাজানো। যদিও বিজ্ঞান এসব ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করে না। যুক্তিবাদীদের দাবি, কোনও ফিসফিস আওয়াজ এখানে শোনা যায় না। ওসব পর্যটকদের মনের ভুল। মানুষের কল্পকাহিনিই ডুমাসকে ভূতুড়ে বিচের অপবাদ দিয়েছে।