Bartaman Logo
৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

স্বাধীনতা হীনতায়

অগ্নিগর্ভ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)। রাস্তায় ছড়িয়ে পাথর, পোড়া গাড়ি! সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনে নির্বিচারে গুলি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ‘ঘাতক’ সেনাবাহিনীর। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯০ জন নিরপরাধ মানুষ।

স্বাধীনতা হীনতায়
  • ৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মৃণালকান্তি দাস: অগ্নিগর্ভ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)। রাস্তায় ছড়িয়ে পাথর, পোড়া গাড়ি! সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনে নির্বিচারে গুলি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ‘ঘাতক’ সেনাবাহিনীর। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯০ জন নিরপরাধ মানুষ। ধরপাকড় চলছে। তবুও থামেনি সরকার বিরোধী বিক্ষোভ। জ্বলে ওঠে রাওয়ালকোট, মিরপুর, কোটলি, নীলম ভ্যালি সহ নানা এলাকা। ইসলামাবাদ টের পাচ্ছে, অবৈধভাবে দখলে থাকা কাশ্মীরই এখন পাকিস্তানের গলার কাঁটা!

Advertisement

পাক প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত রাওয়ালকোটে। সেখানেই নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন এক ব্যবসায়ী। তারপরেই সেই বিক্ষোভ পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অন্য শহরগুলিতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি লন্ডনে পাক হাই কমিশন এবং ব্রিটেনে পাকিস্তানের অন্য কূটনৈতিক দপ্তরগুলির বাইরেও সেই বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়েছে। অবস্থা আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়ায় গত ৫ জুন প্রশাসন নাগরিক সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তাতে পাক সেনার অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আরও বাড়ে। প্রতিবাদীদের দমন করতে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে পাকিস্তানি বাহিনী। বন্ধ করে দেওয়া হয় পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোবাইল নেটওয়ার্ক। সাধারণ বাসিন্দাদের উপর চাপানো হয় বিভিন্ন বিধিনিষেধও। এর জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, খাবার এবং ওষুধ জোগাড় করতে হিমশিম পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা। গত ৯ জুন থেকে ৩৮ দফা দাবিতে শুরু হয় আন্দোলনের নতুন পর্যায়। তাতে ৪০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাক সেনার বিরুদ্ধে। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছিলেন, রাওয়ালকোট এবং মিরপুরের বাসিন্দারা ‘আসল কাশ্মীরি নন’। আর সেটাই ছিল বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালা!
পাল্টা জবাবে বিদ্রোহীরাও ‘অন্য পথ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দীর্ঘ দিন ধরেই পাক সেনার অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-আন্দোলন করছেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা। অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য, মূল্যস্ফীতি, সাধারণ নাগরিকদের প্রতি বঞ্চনা, একের পর এক বিধিনিষেধ চাপানোর জেরে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। তাতে নতুন মাত্রা এনেছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ভোট এবং সংরক্ষিত ১২টি আসন। সেই আসনগুলিই এখন অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু।
রাজপথ থেকে শুরু করে ফসলের খেত— পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সবখানেই এখন কেবলই সাধারণ মানুষের রক্তের দাগ এবং স্বজনহারা পরিবারের কান্নার রোল। গ্রামে গ্রামে বাজারঘাট বন্ধ করে দিয়ে পাক সেনার নির্মম হিংসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল বের করছেন সাধারণ মানুষ। দফায় দফায় এখন একটাই স্লোগান প্রতিধ্বনিত হচ্ছে— ‘ইয়ে জো দেহশাতগার্দি হ্যায়, ইসকে পিছে ওয়ার্দি হ্যায়’। বাংলা করলে দাঁড়ায়, এই যে সন্ত্রাসবাদ, এর পিছনে উর্দি রয়েছে। পাকিস্তান থেকে আজাদি চাইছে ‘আজাদ কাশ্মীর’!
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় মোট ৫৩ জন সদস্যের মধ্যে এই উদ্বাস্তুদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত হয়েছিল। এর মধ্যে ৬টি আসন কাশ্মীর উপত্যকা এবং ৬টি আসন জম্মু থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত। বিভিন্ন সংগঠনের যৌথমঞ্চ, নাগরিক সংগঠন জেএএসি ওই ১২টি সংরক্ষিত আসন তুলে দেওয়ার দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, ১৯৪৭ এবং তারপর ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীর থেকে বহু মানুষ পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। বিশেষ করে জম্মু, পুঞ্চ এবং রাজৌরি থেকে। এই মানুষদের পাকিস্তানে ‘উদ্বাস্তু’ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই উদ্বাস্তুরা যেহেতু পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসতি স্থাপন করেছেন, তাই সংরক্ষিত আসনগুলির ‘উদ্বাস্তু’ ভোটারদের সঙ্গে পিওকে-র কোনো সম্পর্ক নেই। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং সেখানকার রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে ইসলামাবাদের এই আসনগুলি জরুরি। তারা সেই ‘উদ্বাস্তু’ ভোটারদের হাতিয়ার করছে। জেএএসি-র অভিযোগ, পিওকে-র বিধানসভায় নিজেদের কর্মসূচি চাপিয়ে দেওয়ার জন্য ইসলামাবাদ এই আসনগুলিকে ব্যবহার করছে। ওই আসনগুলি থেকে ‘সাজানো’ নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ইসলামাবাদ। এই উদ্বাস্তু আসনগুলি রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, আসনগুলি সংবিধানের আওতায় সুরক্ষিত এবং কেবল আনুষ্ঠানিক সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমেই এগুলি বিলুপ্ত করা সম্ভব। ফলে, আরও তীব্র হয়েছে গণ-আন্দোলন। জেএএসি-র নেতা সর্দার আমান খান সম্প্রতি পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদেরও বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীই মূলত ওই স্থানান্তরিত কাশ্মীরিদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাস রপ্তানি ও অস্ত্র সরবরাহ করে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানি নির্যাতন প্রতিরোধে হস্তক্ষেপের জন্য নয়াদিল্লির কাছে আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। পাকিস্তান শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সতর্ক করে আমান এ-ও মন্তব্য করেন যে, যদি তাঁদের আন্দোলনের ৩৮টি দাবি মেনে নেওয়া না হয় বা বাস্তবায়ন না করা হয়, তবে বিষয়টি আর কেবল দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এক বৃহত্তর আন্দোলনে পরিণত হবে।
ভাবুন, নিজস্ব প্রতিনিধি পরিষদ থাকলেও আজাদ কাশ্মীরের অর্থনৈতিক ও ভূসম্পদ বিষয়ে ‘সুপারিশ করে’ আজাদ কাশ্মীর কাউন্সিল নামের সংস্থা। সদর দপ্তর ইসলামাবাদে। এর চেয়ারম্যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ১৪ সদস্যের এই পরিষদের ৫ জনকেই মনোনয়ন দেন চেয়ারম্যান। বাকি ব্যক্তিরা স্থানীয় প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হয়ে থাকেন। ইসলামাবাদের অঙ্গুলিহেলন মানবে কেন পিওকের বাসিন্দারা?
প্রশ্ন উঠেছে, বিদ্রোহীদের ‘অন্য পথ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি আসলে কী? তা হলে কি ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছেন জেএএসি নেতারা? ভারতের সঙ্গে পিওকে-কে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন? পাকিস্তান থেকে ভেঙে স্বাধীন ভাবে আত্মপ্রকাশের পর্ব শুরু হয়ে গেল কি না, সেই প্রশ্নও উঠে আসছে। এই আঁচ পেয়েই পিওকে-তে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ প্রায় নিষিদ্ধ করে দিয়েছে পাক সরকার। বলা হয়েছে, পিওকে-তে খবর সংগ্রহ করতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। যে অভিমুখে দুই প্রদেশ বালুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া এবং দুই বিশেষ অঞ্চল পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও গিলগিট বাল্টিস্তানে জনতার ক্ষোভ এগোচ্ছে, তাতে পাক সরকারের দুশ্চিন্তার কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইতিমধ্যে ১১ আগস্ট ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’ আত্মপ্রকাশ করবে বলে জানিয়েছেন বালুচ নেতৃত্ব। অভিযোগ, গত সাত দশকে বালুচিস্তান প্রদেশ থেকে খনিজ উত্তোলন করে, তা বিক্রি করে পাকিস্তান কোটি কোটি ডলার উপার্জন করলেও, বালুচিস্তানের ভাগ্যে জোটেনি কিছুই। বরং মিলেছে শুধু অবহেলা-অত্যাচার।
বালোচ, পিওকে-র বিক্ষোভকারীদের মধ্যে যে যোগাযোগ রয়েছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে বালুচ স্বাধীনতাকামী নেতা তথা মানবাধিকার কর্মী মির ইয়ার বালুচের বক্তব্যেও। বলেছেন, ‘১৯৪৭-এ মেকি স্বাধীনতার পরেই কাশ্মীরের দিকে নজর দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। সেখানে অশান্তি পাকিয়ে, অবৈধ ভাবে দখলদারি চালিয়ে অশান্তি তৈরি করে রেখেছে। কাশ্মীরের পরে ওরা হামলা চালায় বালুচিস্তানে। আবার পূর্ব বঙ্গে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে এরা। গোটা পৃথিবী পাক-ভূমি থেকে উদ্ভুত সন্ত্রাসের শিকার।’ মিরের বক্তব্য, বালুচিস্তান হোক বা পাক অধিকৃত কাশ্মীর, এই সব এলাকার বাসিন্দাদের এ দেশের মূল জনগোষ্ঠী বলে মনে করা হয় না। একবার পাক কাশ্মীরের আইজি আফতাব ইকবাল মন্তব্য করেছিলেন, এক হাজার কাশ্মীরির মৃত্যু হলে আখেরে পাকিস্তানেরই উন্নতি হবে। ফলে বোঝাই যায়, পাক সেনার কাছে কাশ্মীরিদের মূল্য আর কতটা!
একই অবস্থা বালোচদেরও। উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ-শাসন অবলুপ্ত হওয়ার পরে ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট বালুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তথাকথিত ‘আজাদ কাশ্মীর’-এর মতো বালুচিস্তানেও সেনা পাঠিয়ে পাকিস্তান দখলদারি চালিয়েছে। পিঠে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে দশকের পর দশক পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষের সঙ্গেও অন্যায় করা হয়েছে। উন্নয়নের সিকিভাগও তাঁদের কাছে পৌঁছয়নি। ‘সম্পদ লুটের বদলে আমরা সবাই শুধু অবহেলা-অনুন্নয়ন উপহার পেয়েছি। পাক সরকার নিজের কোষাগার খসিয়ে কেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের উন্নয়ন করতে যাবে!’ অভিযোগ মির ইয়ার বালোচের। একই সুর শোনা গিয়েছে রাওয়ালকোটের ইদগাহ ময়দানের বিশাল সমাবেশে। যেখানে জেএএসি-র নেতা সর্দার আমান খান বলেছেন, ‘পিওকে পাকিস্তানের অংশ নয়। আমরা এই দেশের কেউ নই। আমাদের কোনও প্রয়োজন নেই পাকিস্তানকে। বরং পাকিস্তানই মরিয়া হয়ে আমাদের রেখে দিতে চায়। শুধু কাগুজে স্বাধীনতা নয়। আমরা চাই নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা। আমরাই আমাদের এলাকা নিয়ে শেষ কথা বলব।’ সুর মেলান উপস্থিত জনতা। স্লোগান ওঠে, ‘স্বাধীনতা চাই। দূর হটো শেহবাজ সরকার। দূর হটো মুনিরের সেনা।’
রাতের ঘুম উবে যাওয়ার উপক্রম পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনিরের। পাক সেনার গুলিতে জমছে লাশের পাহাড়। ইসলামাবাদের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ইসলাম অ্যান্ড ডিকলোনাইজেশনের শীর্ষ কর্তা জুনাইদ এস আহমদ বলছেন, ‘যে রাষ্ট্র বালুচদের ভিন্নমতকে রাষ্ট্রদ্রোহ, পশতুদের ভিন্নমতকে সন্ত্রাসবাদ, নির্বাচনী ভিন্নমতকে দেশদ্রোহ এবং কাশ্মীরিদের ভিন্নমতকে ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেয়, সেই রাষ্ট্র জাতিকে রক্ষা করছে না। আসলে নিজের সদর দপ্তরকে রক্ষা করছে। অচিরেই হয়তো আর কোনো ‘ভালো’ পাকিস্তানি অবশিষ্ট থাকবে না। থাকবে শুধু সন্দেহভাজন মানুষ, যারা শ্রেণিবিন্যাস, শাস্তি এবং নীরবতার দেশপ্রেমী শিষ্টাচার শেখার অপেক্ষায় থাকবে। এর অর্থ এই নয় যে ‘সিকিউরিটি স্টেট’-র শত্রুদের পরাজিত করা। বরং এর অর্থ, তারা গোটা দেশকেই নিজেদের শত্রুতে পরিণত করা।’
পিওকে-র বিশিষ্ট নেতা তথা ইউনাইটেড কাশ্মীর পিপলস ন্যাশনাল পার্টি প্রধান জামিল মাকসুদের সাম্প্রতিক বয়ান তারই ইঙ্গিত দিয়েছে। জেনেভায় সংবাদসংস্থা এএনআই-কে বলেছেন, পাকিস্তান একটি ‘দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র’। ভারতের সঙ্গে একত্র হতে চায় পাক-অধিকৃত কাশ্মীর!
 • গ্রাফিক্স : সোমনাথ পাল
• সহযোগিতায় : বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ