Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

অনবদ্য ডি’কক, রাজস্থান বধ নাইটদের, নিয়ন্ত্রিত বোলিং বরুণ-হর্ষিতদের

অ্যাওয়ে ম্যাচে বুধবার রাজস্থান রয়্যালসকে ৮ উইকেটে বশ মানাল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।

অনবদ্য ডি’কক, রাজস্থান বধ নাইটদের, নিয়ন্ত্রিত বোলিং বরুণ-হর্ষিতদের
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

গুয়াহাটি: চলতি আইপিএলে প্রথম জয় পেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। অ্যাওয়ে ম্যাচে বুধবার রাজস্থান রয়্যালসকে ৮ উইকেটে বশ মানাল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। সঞ্জু স্যামসনরা ১৫২ রানের টার্গেট দিয়েছিলেন কেকেআরের সামনে। টি-২০’র নিরিখে যা মোটেও কঠিন ছিল না। কিন্তু বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামের পিচ ছিল বড়ই মন্থর। বল পড়ে ব্যাটে আসছিল দেরিতে। তাই অনায়াসে শট খেলার সুযোগ ছিল না। তা সত্ত্বেও অনবদ্য ব্যাটিং করলেন কুইন্টন ডি’কক। ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জেতান তিনি। ৬১ বলে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন। যেভাবে খেলছিলেন, আর কয়েকটা বল পেলে এবারের কোটিপতি লিগে নামের পাশে একটি সেঞ্চুরিও লিখে ফেলতে পারতেন তিনি। 
এদিন অবশ্য রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি নাইটদের। নারিনের জায়গায় ওপেন করতে নেমে হতাশ করলেন মঈন আলি। অহেতুক উইকেট উপহার দিয়ে দলকে চাপেও ফেলেন তিনি। ক্যাপ্টেন অজিঙ্কা রাহানে দুলকি চালে স্কোর এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি জানতেন তুলে মারা মানেই বিপদ ডেকে আনা। কিন্তু অস্কিং রেট নাগালে আনার জন্য তিনি বাউন্ডারির খোঁজে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। হাসারাঙ্গার বলে রাহানে (১৮) ধরা পড়েন দেশপাণ্ডের হাতে। তবে ডি’কক তাতে দমেননি। নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকিয়ে চাপমুক্ত করেন নিজেকে। সঙ্গী অঙ্গক্রিশ রঘুবংশীও ১৭ বলে ২২ রান করে (নট আউট) সাহসের পরিচয় দিলেন। তাঁদের যুগলবন্দিতে যোগ হয় ৮৩ রান। ১৫ বল বাকি থাকতেই অনায়াসেই জয়ের কড়ি জোগাড় করে নেয় কেকেআর (১৫৩-২)। 
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে রাজস্থান রয়্যালস। আশা ছিল, সেকেন্ড হোমে শুরুতেই ঝড় তুলবেন যশস্বী জয়সওয়াল ও সঞ্জু স্যামসন। উইকেট মন্থর হওয়ায় সেই সুযোগ ছিল না তাঁদের সামনে। ঝুঁকি নিতে গিয়ে সঞ্জু ১৩ রানে বোল্ড হন বৈভবের বলে। ধাক্কা সামলে ওঠার মরিয়া চেষ্টা চালান যশস্বী। সঙ্গী রিয়ান পরাগও চেষ্টা করেন পাওয়ার প্লে’তে যতটা সম্ভব রান যোগ করার। প্রথম ৬ ওভারে রাজস্থান রয়্যালস তোলে ১ উইকেটে ৫৪, যা মোটেও মন্দ ছিল না। সেট হয়ে গিয়েছিলেন যশস্বী ও রিয়ান। তাঁদের সামনে বড় পার্টনারশিপ গড়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু স্পিনের চক্রব্যুহে আটকে পড়ে রাজস্থানের যাবতীয় কৌশল। একদিক থেকে বরুণ চক্রবর্তী, অন্যদিক থেকে অসুস্থ সুনীল নারিনের পরিবর্ত হিসেবে নামা মঈন আলি—জোড়া স্পিন হামলায় ছত্রভঙ্গ হয় রাজস্থান। বরুণের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে মহাশূন্যে ক্যাচ তোলেন রিয়ান। যা ধরতে ভুল হয়নি ডি’ককের। তারপর মঈনের বলে লং অনে হর্ষিতের হাতে ধরা পড়েন যশস্বী। আচমকা পাঁচে নামানো হাসারাঙ্গাও ব্যর্থ। তাঁকে ফেরান বরুণ। আর প্রাক্তন নাইট নীতীশ রানা কিছু বোঝার আগেই মঈনের ডেলিভারিতে বোল্ড হন।
রাজস্থানের স্কোর তখন ৫ উইকেটে ৮২। ইমপ্যাক্ট হিসেবে নামা শুভম দুবেও (৯) হতাশ করেন। একমাত্র পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ধ্রুব জুরেল। ৫টি বাউন্ডারির সাহায্যে ২৮ বলে ৩৩ রান করে আউট হন তিনি। তবে মারকুটে হেটমায়ারকে স্বমহিমায় দেখা যায়নি। হর্ষিতের বলে  ৭ রানে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ৭ বলে মূল্যবান ১৬ রান করে রাজস্থানের স্কোর দেড়শোর উপরে পৌঁছে দেন জোফ্রা আর্চার। এক্ষেত্রে কেকেআরের পেসার স্পেনসার জনসনের অবদানও কম নয়। চার ওভারে বিলিয়েছেন ৪২ রান। আরসিবি ম্যাচেও তাঁকে খেলিয়ে ডুবেছিল দল। তার পরেও অ্যানরিখ নর্তজেকে বাইরে রেখে কোন মোহে স্পেনসারকে খেলিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়।

Advertisement

 

রাজস্থান ১৫১/৯ কলকাতা ১৫৩/২

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ