Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৬ বছরের বোনকে খুনে অভিযুক্ত পিসতুতো দাদা, চাঞ্চল্য হাসনাবাদে

ছ’বছরের বোনকে শ্বাসরোধ করে খুন করে প্রমাণ লোপাট করতে দেহ পুঁতে দেওয়া হল পাশের একটি পুকুরে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ওই শিশুকন্যার পিসতুতো দাদা।

৬ বছরের বোনকে খুনে অভিযুক্ত পিসতুতো দাদা, চাঞ্চল্য হাসনাবাদে
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ছ’বছরের বোনকে শ্বাসরোধ করে খুন করে প্রমাণ লোপাট করতে দেহ পুঁতে দেওয়া হল পাশের একটি পুকুরে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ওই শিশুকন্যার পিসতুতো দাদা। সে নিজেও নাবালক। রবিবার সাতসকালে ঘটনার কথা জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় হাসনাবাদে। পুলিস জানিয়েছে, মৃত শিশুকন্যার নাম সায়মা খাতুন। সে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পুলিস ওই নাবালক দাদাকে গ্রেপ্তার করেছে।

Advertisement

পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসনাবাদের মনোহরপুর গ্রামে সায়মার বাড়ি। শনিবার বিকেলে বাড়িতে কেউ ছিল না। সেই সময় পিসতুতো দাদা তাদের বাড়িতে আসে। সে সায়মাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যেতে চায়। পিসির বাড়ি যাবে, সেই আনন্দে দাদার সঙ্গে লাফাতে লাফাতে রওনা দেয়। রাতে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যরা সায়মাকে দেখতে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর নাবালক ওই পিসতুতো দাদার উপর সন্দেহ হয়। এরপর থানায় বিষয়টি জানান সায়মার পরিবারের সদস্যরা। হাসনাবাদ থানার পুলিস তদন্তে নেমে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। পরিবারের সদস্যদেরও জেরা করা হয়। তারপর সন্দেহের তালিকায় থাকা পিসতুতো দাদাকে পুলিস আটক করে। তাকে জেরা করতেই বোনকে খুনের কথা কবুল করে সে। সে পুলিসকে জানিয়েছে, বাড়িতে কেউ ছিল না। সেই সুযোগে বোনকে শ্বাসরোধ করে খুন করে বাড়ির পিছনে পুকুরে পুঁতে দিয়েছে সে। এরপর পুলিস ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিন রাতেই পিসতুতো দাদাকে অকুস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে পুলিস। সে কীভাবে বোনকে খুন করেছে, তার বর্ণনাও দিয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুকন্যা খুনের ঘটনায় যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে নাবালক। ধৃতকে জুভেনাইল আদালতে পাঠানো হবে। তারপর তাকে হোমে পাঠানো হবে। এর পিছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সায়মার বাবা বলেন, শনিবার বিকেলে আমরা বাড়িতে ছিলাম না। রাতে বাড়ি ফিরে মেয়েকে দেখতে পাইনি। শুরু করি খোঁজাখুঁজি। কিন্তু মেয়ের হদিশ পাইনি। গভীর রাতে জানা গেল, আমার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন করে পুকুরের ধারে পুঁতে দিয়েছে আমারই ভাগ্নে। আমি জানি না, সে কেন এই অপরাধ করল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ