সংবাদদাতা, সিউড়ি: আগামী ২৮ জুলাই জেলা সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলনেত্রীকে হাতের কাছে পেয়ে একাধিক আবেদন জানাতে তৈরি জেলার নেতারা। পাশাপাশি, দুবরাজপুরের সামগ্রিক উন্নয়নে গুচ্ছ পরিকল্পনার কথা শোনাতে মুখিয়ে রয়েছেন পুরসভার পুরপ্রধানও। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দুবরাজপুর পুরসভার একটি অডিটোরিয়াম এবং মার্কেট কমপ্লেক্স হবে। সেই কাজ যাতে দ্রুততার সঙ্গে করা যায়, সেই মর্মে মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন জানানো হবে। দুবরাজপুর পুর এলাকায় মোট চারটি বাজার রয়েছে। পুরসভা ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে সেগুলি বানানো হয়েছে। কিন্তু আরও একটি স্থায়ী বাজার বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে পুর কর্তৃপক্ষের। জানা গিয়েছে, পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে সেটি বানানো হবে। ওই ওয়ার্ডে পুরসভার নিজস্ব ১০ কাঠা জমি রয়েছে। সেখানে চারতলা কমপ্লেক্স করা হবে। ইতিমধ্যে এমইডির পক্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই মার্কেটের ড্রয়িং এবং আনুমানিক খরচও কত হবে, সেটা জানানো হয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, দিনের পর দিন শহরের জনবসতি বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের কাজের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ওই বাজারে অনেক বেকার ছেলে মেয়ে ব্যবসা করতে পারবেন। সেই কারণেই পুর কর্তৃপক্ষের ওই উদ্যোগ। এছাড়া ১২ নম্বর ওয়ার্ডে একটি অডিটোরিয়াম বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছে পুরসভা। সেখানেও প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ সেরেছে এমইডি। দুবরাজপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সংস্কৃতি চর্চার বহু মানুষ রয়েছেন। তাঁদের জন্য ওই অডিটোরিয়াম খুবই প্রয়োজন। মূলত, এই দু’টি পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন জানাবেন দুবরাজপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পীযূষ পাণ্ডে। তিনি জানান, দিদি একদিন জেলায় থাকছেন। কথা বলার সুযোগ হলে এই দু’টি বিষয় নিয়ে আবেদন জানাব। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, দুবরাজপুরকে পৃথক মহকুমা গঠনের জন্যও আমরা জানাব। দুবরাজপুর, খয়রাশোল এবং রাজনগর ব্লক নিয়ে একটি পৃথক মহকুমা গঠন করার জন্য আবেদন করব। কারণ এই তিনটি ব্লক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এই এলাকার লোকজনকে সিউড়ি যেতে হয়। যেটা অনেকটাই রাস্তা। ফলে, দুবরাজপুরে পৃথক মহকুমা হলে এলাকাবাসী উপকৃত হবেন। পাশাপাশি সিউড়ির উপর কাজের চাপও কমবে। এছাড়া দুবরাজপুরে ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালকে স্টেট জেনারেল হাসপাতালে রুপান্তরিত করার আবেদন জানানো হবে। যেহেতু দুবরাজপুর ব্লক প্রাথমিক হাসপাতাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রচুর রোগীর চাপ থাকে। তাই স্টেট জেনারেল হাসপাতাল হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। পীযুষ পাণ্ডের কথায়, ইতিমধ্যে লাভপুর, সাঁইথিয়া ব্লকে স্টেট জেনারেল হাসপাতাল হয়েছে। আমরা দুবরাজপুরকেও স্টেট জেনারেল হাসপাতাল হোক সেই আবেদন জানাব।



