পুজোয় জমিয়ে চলল মুরগি-মাটন, বিক্রির হার বৃদ্ধি হোটেল-রেস্তরাঁয়, উৎসবের বাংলায় পাত্তাই পেল না বাগেশ্বর বাবার নিরামিষ-নিদান
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজোয় বাগেশ্বর বাবার নিরামিষ আহারের ফতোয়াকে কার্যত ফুৎকারে উড়িয়ে দিল বাঙালি! পুজোর ক’দিন জমিয়ে চলল মুরগি-মাটন! উৎসবে মেতে ওঠা মানুষ বুঝিয়ে দিল ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ শুধু কথার কথা নয়, ঘোর বাস্তব। কারণ, তথ্য বলছে পুজোর কিছুদিন আগে বাগেশ্বর বাবার ওই নিরামিষ নিদান নিয়ে বিস্তর বিতর্ক সত্ত্বেও গত বছরের তুলনায় এবার পুজোয় হোটেল-রেস্তরাঁয় বিক্রি বেড়েছে ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘হোটেল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তাদের ব্যবসা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত। এই বৃদ্ধি আদতে রাজ্যের অর্থনীতির ইতিবাচক দিককেই ইঙ্গিত করছে।’ 

Advertisement

সেপ্টেম্বরের গোড়ায় রাজ্যে এসে বাগেশ্বর বাবা হিসাবে পরিচিত মধ্যপ্রদেশের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী দাবি করেছিলেন, বাঙালিরা পাখন্ডি! দুর্গাপুজোয় তাদের খাওয়াদাওয়া মানেই ‘গন্ধি গন্ধি ভোজন’। তাঁর ওই নিদান নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামতে হয়েছিল রাজ্য বিজেপি সভাপতি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। শমীকবাবু বলেছিলেন, ‘কোন সাধু এসে কী বলে গেলেন, তার জন্য বাঙালি আমিষ খাবে না?’ পুজো শেষে দেখা গেল, বাগেশ্বর বাবার নিদান পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে বাঙালি। রীতি বজায় রেখেই ঠাকুর দেখার ফাঁকে পছন্দের হোটেল বা রেস্তরাঁয় আত্মীয়-পরিজনদের নিয়ে জমিয়ে খানাপিনা চলেছে। চাইনিজ, ইন্ডিয়ান এবং মোগলাই খাবারের দোকানগুলিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দুপুর থেকেই লম্বা লাইন। রাত গভীর হলেও ভিড় হালকা হয়নি তেমন। 
শুধু কলকাতায় নয়, রাজ্যজুড়েই হোটেল-রেস্তরাঁয় এবার পুজোয় বিক্রির হার বেড়েছে বলেই জানিয়েছেন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি সুরেশ পোদ্দার। তিনি বলেন, ‘রাজ্যে প্রায় ৭০ হাজার হোটেল-রেস্তরাঁ রয়েছে। কম-বেশি সমস্ত জায়গাতেই বিক্রি বেড়েছে। কোনো ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ। অনেক রেস্তরাঁয় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বিক্রি বৃদ্ধি হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হোটেল- রেস্তরাঁয় খেতে আসার প্রবণতাও এবার বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আমাদের সদস্যরা।’ 
এবার রাজ্যে পুজোর সংখ্যা বৃদ্ধির কিছু ইতিবাচক প্রভাব হোটেল-রেস্তরাঁর ব্যবসায়ও পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। প্রতি বছর পুজোর সময় পার্ক স্ট্রিটের বিভিন্ন রেস্তরাঁয় খাওয়াদাওয়ার জন্য ভিড় জমে। এবারই প্রথম পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে দুর্গাপুজো হওয়ায় সেখানকার হোটেল-রেস্তরাঁয় ভিড় কয়েক গুণ বেড়েছে বলে দাবি। সব মিলিয়ে নিরামিষ আহারের নিদান কোনো পাত্তাই পায়নি উৎসবের বাংলায়।