নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীনগর: কাশ্মীরের বাটপোরা কানিহামা গ্রাম। নিতান্ত এক সাধারণ জনপদ। সেখানকার প্রায় প্রতিটি বাড়ি এথকেই রোজ ভেসে আসে কাঠের তাঁতের শব্দ। বিখ্যাত কানি শাল বুনছেন শিল্পীরা। কানিহামায় এই শব্দ নতুন নয়, তবে গত কয়েকবছরে এখানকার বেশিরভাগ তাঁতই থেমে গিয়েছিল। সৌজন্যে মেশিনে তৈরি সস্তার শাল, যা দেখতে হুবহু আসলের মতোই। তবে জিআই ট্যাগ পাওয়ার পরই পুনরুজ্জীবিত হয়েছে হাতে তৈরি এই শালের বাজার।
মাঞ্জুর আহমেদ (৪৫) নামের স্থানীয় এক শিল্পী জানিয়েছেন, চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে তিনিও শাল তৈরি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে এখন নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছেন। মাঞ্জুরের কারখানায় ৯ জন শিল্পী দু’টি তাঁতে অবিরাম বুনে চলেছে ঐতিহ্যবাহী এই শাল। তিনি বলেন, ‘আমি সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। তবে বর্তমানে হাতে তৈরি শালের চাহিদা বেড়েছে। মনে হচ্ছে, পুরোনো দিন আবার ফিরে এসেছে।’ কারখানায় দাঁড়িয়ে মাঞ্জুর যখন এই কথা বলছিলেন, তখন তাঁর চোখ তাঁতে একটু একটু করে তৈরি হওয়া শালের জটিল নকশার দিকে।
সম্প্রতি আরও বেশ কিছু কাশ্মীরি শিল্পের সঙ্গে জিআই (জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন) ট্যাগ পেয়েছে কানি শালও। তারপরই বাটপোরা কানিহামা গ্রামের প্রায় ৩৫০ পরিবার নতুন উদ্যমে নেমে পড়ে। এই শালের উপর জটিল নকশা তৈরি করতে ব্যবহার হয় একটি কাঠের দণ্ড, সেটিই স্থানীয়ভাবে পরিচিত কানি নামে। অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য এই শাল বোনা। কয়েক মাস থেকে শুরু করে এক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। ৩৭ বছরের বিলাল আহমেদ ঘনি মতো নতুন শিল্পীদের জন্য এই শালের পুনরুজ্জীবন যেমন গর্বের তেমনই আর্থিকভাবে সমৃদ্ধিরও। বাবার কাছ থেকে শালের কাজ শেখা বিলাল বলেন, ‘বাজারে শালের ব্যাপক চাহিদা বাড়ায়, শিল্পীদের উপার্জনও বেড়েছে। নতুন প্রজন্মএখন এই কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছে।’