Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশে জেলবন্দি বীরভূমের সোনালি বিবি সহ ৬ ভারতীয়কে ফেরাতে ব্যর্থ কেন্দ্র

কলকাতা হাইকোর্ট নির্ধারিত চার সপ্তাহের সময়সীমা শেষ হয়েছে শুক্রবার। কিন্তু বাংলাদেশি সন্দেহে পুশব্যাক করা বীরভূমের আসন্নপ্রসবা সোনালি বিবি সহ মুরারই ও পাইকর থানার দুই পরিবারের ছয় সদস্যকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্র সরকারকে চার সপ্তাহ সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।

বাংলাদেশে জেলবন্দি বীরভূমের সোনালি বিবি সহ ৬ ভারতীয়কে ফেরাতে ব্যর্থ কেন্দ্র
  • ২৫ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কলকাতা হাইকোর্ট নির্ধারিত চার সপ্তাহের সময়সীমা শেষ হয়েছে শুক্রবার। কিন্তু বাংলাদেশি সন্দেহে পুশব্যাক করা বীরভূমের আসন্নপ্রসবা সোনালি বিবি সহ মুরারই ও পাইকর থানার দুই পরিবারের ছয় সদস্যকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্র সরকারকে চার সপ্তাহ সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। নিজের নাগরকদের দেশে ফেরাতে উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনকে নির্দেশও দিয়েছিল সে দেশের আদালত। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট নির্ধারিত সেই সময়সীমা শেষ হলেও, তাঁদের দেশে ফেরা অনিশ্চিত। বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই ভারতীয় নাগরিকদের জামিন মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে আগামী ৩ নভেম্বর। এই পর্বে বীরভূমের এই বাসিন্দাদের দেশে ফেরাতে কেন্দ্র সরকারের তরফে কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। 

Advertisement

গত ২০ জুন দিল্লির ইটভাটা থেকে পাকড়াও করার পর বীরভূমের ওই ছ’জনকে অসমের ধুবড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৬ জুন বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়।  দিল্লি পুলিশ। দিল্লি পুলিশের দাবি ছিল, ধৃতরা সবাই বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দেপুসারপার ইউনিয়নের মোরেলগ্যাংছেপুয়ারপার গ্রামের বাসিন্দা। যদিও বাংলাদেশ পুলিশের তদন্ত ও আদালতের পযর্বেক্ষণে সামনে আসে, ধৃতরা প্রত্যেকেই ভারতের নাগরিক। বাংলাদেশে বেআইনি অনুপ্রবেশের জন্য তাদের ‘দ্য কেন্ট্রাল অব এন্ট্রি অ্যাক্ট, ১৯৫২’এর চার ধারা অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয় রাজ্য সরকার ও পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ। 
রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল বলেন, ‘আদালতের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা তাঁদের ফিরিয়ে আনার জন্য কোনও উদ্যোগ নেয়নি। প্রথমে তাঁদের বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। পরে আদালত তাঁদের ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। কিন্তু, কেন্দ্র তাঁদের ফেরাতে ন্যূনতম প্রচেষ্টাও করেনি। আগামী নির্বাচনে বাংলার মানুষ বাংলা বিরোধীদের উপযুক্ত জবাব দেবে।’
এদিকে,প্রতিমুহূর্তে উৎকণ্ঠায় কাটাচ্ছে ওই ছ’জনের পরিবার। বাবা- মায়ের জন্য কেঁদে চলেছে সোনালির ছয় বছরের মেয়ে আফরিনা খাতুন। সে দাদু, দিদিমার কাছে রয়েছে। এদিন, কাঁদতে কাঁদতে ভোদু শেখ ও তাঁর স্ত্রী জোৎস্না বিবি বলেন, ‘আমাদের মেয়ে, নাতি আর দেশে ফিরবে কিনা তার কোনও উপায় দেখতে পাচ্ছি না। চারমাস পার হয়ে গেল। মেয়ে, নাতিরা কী অবস্থায় রয়েছে, তাও জানতে পারছি না। আর ক’দিন পরই সোনালি সন্তানের জন্ম দেবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ