সংবাদদাতা, খড়্গপুর ও বেলদা: মেদিনীপুর, খড়্গপুর থেকে শুরু করে বেলদা, নারায়ণগড় কিংবা মকরামপুরে হোটেল, লজ, গেস্টহাউস, স্পা ও রিসর্টে রমরমিয়ে মধুচক্র চলছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল আমলে পুলিশ ও নেতাকে টাকা দিয়ে এই অবৈধ কারবার চালানোর অভিযোগ উঠত। বিজেপি সরকারের আমলে আবার স্থানীয় কিছু নেতা নিজেদের আখের গোছানোর জন্য এইসব অবৈধ কাজকে প্রশ্রয় দিতে চাইছে। তবে তাতে জল ঢেলে দিল পুলিশ। লজ, হোটেল, রিসর্টে সমস্ত ধরনের অবৈধ কাজকর্ম বন্ধ করতে কড়া অভিযান শুরু করেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ।
গত কয়েক সপ্তাহে খড়্গপুর শহরের বিভিন্ন হোটেল, স্পা ও আবাসনে অভিযান চালিয়ে একাধিক পুরুষ ও মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা একাধিক অবৈধ স্পা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশারা বানোর নেতৃত্বে নারায়ণগড় থানা এলাকায় জাতীয় সড়কের পাশে একটি রিসর্টে অভিযান চালিয়ে মালিক সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাঁচজন যুবতীকে উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মেদিনীপুরে সাংবাদিক বৈঠক থেকে নারায়ণগড়ের অভিযানের কথা জানান পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের যৌন-কেলেঙ্কারি, মধুচক্র, মানব-পাচার ও নারী নির্যাতন বন্ধ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। হোটেলগুলিতে সমস্ত ধরনের অবৈধ কাজকর্ম বা সেক্স র্যাকেট বন্ধ করতে অভিযান শুরু হয়েছে। হোটেলের রেজিস্ট্রার খতিয়ে দেখব আমরা। অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখা প্রভৃতি বিষয়ে হোটেলগুলিকে সতর্ক করে দেওয়া হবে। পুলিশ সুপারের সাংবাদিক বৈঠকের পরই খড়্গপুর শহরের মালঞ্চের প্রেমহরি ভবনে শহরের হোটেল মালিকদের নিয়ে বৈঠক করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশারা বানো, এসডিপিও সিদ্ধার্থ ঢাঙ্গি সহ পুলিশ অফিসাররা। বৈঠকে হোটেল মালিকদের ১৩ দফা নির্দেশিকা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া অতিথিদের প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া বিদেশি নাগরিক হলে বিশেষ নিয়ম মেনে চলতে হবে। সিসি ক্যামেরার নজরদারি সহ নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখতে হবে। মাদক সেবন, জুয়া, মধুচক্র বরদাস্ত করা যাবে না। এদিন বিকেলের মধ্যে প্রতিটি হোটেলেই সেই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।