সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: জনগণনাতে কুড়মিদের ধর্ম ও ভাষার পৃথক কোডের দাবিতে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং সেনসাস কমিশনারের সঙ্গে দেখা করল আদিবাসী কুড়মি সমাজ নেতৃত্ব। সংগঠনের মুখ্য উপদেষ্টা অজিত প্রসাদ মাহাতো ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়া, জামশেদপুর এবং গিরিডির সাংসদরাও। চলতি জনগণনাতেই বিষয়টি যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে আদিবাসী কুড়মি সমাজ।
জনগগনাতে কুড়মিদের ধর্ম ‘সারনার’ আলাদা কোড এবং কুড়মালি ভাষার জন্য আলাদা কোডের দাবি কুড়মিদের দীর্ঘদিনের। চলতি মাসের শুরু থেকেই জনগণনা শুরু হয়েছে। তারই মধ্যেই দেশের রেজিস্ট্রার জেনারেল তথা সেনসাস কমিশনারের সঙ্গে দেখা করলেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। তাতে অজিতবাবু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শশাঙ্কশেখর মাহাতো। সেই সঙ্গে ছিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, জামশেদপুরের সাংসদ বিদ্যুত মাহাতো এবং গিরিডির সাংসদ চন্দ্রপ্রকাশ চৌধুরী। এ বিষয়ে অজিত মাহাতো বলেন, জনগণনার কাজ চলছে। কিন্তু তাতে কুড়মিদের ধর্ম সারি-সারনার জন্য আলাদা কোনো কোড দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। সেই সঙ্গে কুড়মালি ভাষার তথ্যেও অসঙ্গতি রয়েছে। কুড়মিদের ধর্মের আলাদা কোড দেওয়া এবং কুড়মালি ভাষার জন্য আলাদা কোডের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি গোটা বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে। অজিতবাবু এদিন আরও বলেন, তিনজন এমপিকে এদিন আসার জন্য আহ্বান করা হয়েছিল। তাঁরা সঙ্গে ছিলেন। তবে নিজেই বেশিরভাগ বিষয়টি বুঝিয়ে বলেছি। রেজিস্ট্রার জেনারেল যথেষ্ট ধৈর্য নিয়ে সব শুনেছেন। আগামী কয়েকদিনে এমপিরা যাতে এ বিষয়ে তাঁকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন সে বিষয়েও এমপিদের অনুরোধ করা হয়েছে। সদর্থক আলোচনা হয়েছে বলে জানান অজিতবাবু। তিনি আরও বলেন, এসটি এবং এসটির অপশন দেওয়ার জায়গা থাকলেও ওবিসির জন্য আলাদা কোনো অপশন নেই। সে বিষয়েও জানানো হয়েছে।
অজিতবাবু এদিন দিল্লি থেকে ফোনে বলেন, ৬ সেপ্টেম্বর কুড়মিদের এসটি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তার প্রতিবাদে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর গ্রামে গ্রামে কালো পতাকা তোলার পাশাপাশি কালো ব্যাজ পরবেন কুড়মিরা। কালা দিবস পালন করা হবে গোটা দিন। সেই সঙ্গে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পুরুলিয়ার কড়াডির টাঁড়ে ডুঁড়কুর মাঠের চেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতিতে সভা করা হবে। সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিত থাকার কথা। ওড়িশা এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রীকেও আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়াও কুড়মিদের ভোটে জয়ী জঙ্গল মহলের সমস্ত জনপ্রতিনিধিকে সভায় আসার আবেদন করা হবে।