Bartaman Logo
৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বকেয়া কর ৫ কোটি টাকা, মেগা অভিযানে আরামবাগ পুরসভা

আরামবাগ পুরসভায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা কর বকেয়া রয়েছে।

বকেয়া কর ৫ কোটি টাকা, মেগা অভিযানে আরামবাগ পুরসভা
  • ৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: আরামবাগ পুরসভায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা কর বকেয়া রয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর বকেয়া ট্যাক্স আদায়ে তৎপরতা শুরু করল প্রশাসক পরিচালিত পুরসভা। প্রত্যেক দপ্তর থেকে কর্মী নিয়ে মেগা অভিযানে নামতে চলেছে পুর প্রশাসন। এনিয়ে আরামবাগের বিধায়ক হেমন্ত বাগের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠকও হয়েছে পুরসভায়। কিন্তু, বাজারে পড়ে থাকা টাকা উদ্ধারের এই আচমকা অভিযানে নামার সিদ্ধান্ত কেন? এব্যাপারে বিধায়ক বলছেন, আরামবাগ পুরসভায় বর্তমানে নিজস্ব তহবিল কার্যত শূন্য। প্রত্যেক মাসে সেখানকার বিভিন্ন ধরনের কর্মীদের মাইনে বাবদ প্রায় ৬৮ লক্ষ টাকা দিতে হয়। সেই টাকা মেটানোর ক্ষেত্রে পুরসভাকে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অথচ হিসাব করে দেখা গিয়েছে আরামবাগ পুরসভা এলাকায় কর বাবদ প্রায় ছ’কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। সেই টাকা পুরসভায় ঢুকলে নিজস্ব তহবিল বাড়বে। শহরের উন্নয়নেও নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তাই যেসব প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তির কাছে মোটা অংকের কর বকেয়া রয়েছে, তাদের নোটিস দিয়ে আদায়ের জন্য বলা হয়েছে। শীঘ্রই সেসব ব্যক্তির সঙ্গে পুরসভাকে বৈঠক করতেও বলা হয়েছে। 

Advertisement

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ শহরের ১৯টি ওয়ার্ডে বহু হোল্ডিং ট্যাক্স দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে। এছাড়া বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত জলের করও দেয়নি অনেক প্রতিষ্ঠান। বহু ফ্ল্যাটের হোল্ডিং ট্যাক্সও বকেয়া রয়েছে। দিনের পর দিন সেই সব কর বকেয়া থাকায় তা বাড়তে বাড়তে পাঁচ থেকে ছ’কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এমনকি, সরকারি ভবনের ট্যাক্সও বকেয়া হয়ে গিয়েছে। তবে কয়েক বছর আগে ট্যাক্সের পরিমাণ বৃদ্ধি করা নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এপ্রসঙ্গে পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের জমির গুরুত্ব অনুযায়ী ট্যাক্সের পরিমান বেড়েছে। তা অবশ্য সংশ্লিষ্ট বোর্ডের মূল্যায়নের নিরিখেই হয়েছে। 
আরামবাগ পুরসভায় বহু অস্থায়ী, স্থায়ী, পেনশনভোগী সহ অন্যান্য কর্মী রয়েছেন। প্রত্যেক মাসে পুরসভার তরফে তাঁদের মাইনের একাংশ দিতে হয়। তাছাড়া জরুরি প্রয়োজনেও পুরসভাকে নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু, বর্তমানে নিজস্ব তহবিলের ভাঁড়ার শোচনীয় হয়ে উঠছে বলেই দাবি পুরসভার। তাই বকেয়া কর আদায় হলে এক্ষেত্রে পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম চলতে কিছুটা সুবিধা হতে পারে বলে মত কর্মী-আধিকারিকদের একাংশের। 
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল পরিচালিত পুরসভায় চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য কাউন্সিলারদের একাংশ নিয়মিতে অফিসে আসছিলেন না। তারফলে পুরসভা থেকে নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা হচ্ছিল। গত জুন মাসের শেষের দিকে তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ড ভেঙে দিয়েছে রাজ্য। তারপর সেখানে আরামবাগের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ করা হয়। 
পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, বৃহস্পতিবারই বিধায়কের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা মতো প্রত্যেক দপ্তর থেকে একজন করে কর্মীকে নিয়ে একটি কমিটি গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই কমিটির সদস্যরা বকেয়া কর আদায়ে বেরবেন। বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর বকেয়া রয়েছে। সেখানে তা আদায়ের উপর জোর দেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ