নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লড়াই চলছিল অনেকদিন ধরেই। তবে কর্ণপাত করছিল না মোদি সরকার। টাকা আটকে রাখতে চাওয়া হচ্ছিল একের পর এক নথি। কেন্দ্রীয় সরকারের চাহিদামতো প্রতিটি পুরসভার আয়-ব্যয়ের হিসেবসহ সমস্ত তথ্য পেশও করে গিয়েছে নবান্ন। ফলে কেন্দ্রের তরফে কোনওমতেই পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। শেষমেষ বুধবার ১০১টি পুরসভার ৪২৫ কোটি টাকা ছাড়ল কেন্দ্র।
জনসংখ্যা দশ লক্ষের বেশি না-হলে সেগুলিকে ‘নন মিলিয়ন প্লাস সিটি’ বলা হয়। অর্থাৎ, কলকাতা, হাওড়া এবং আসানসোল ছাড়া বাকি পুরসভাগুলিই নন মিলিয়ন প্লাস সিটি। সেগুলির মধ্যে ১০১টির জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এই পুরসভাগুলির তালিকায় রয়েছে—কাঁচড়াপাড়া, ভাটপাড়া, বৈদ্যবাটি, বাঁকুড়া, বাঁশবেড়িয়া, বারুইপুর, হরিণঘাটা, ঝাড়গ্রাম, কোচবিহার, উলুবেড়িয়া, কোননগর প্রভৃতি পুরসভার নাম।
নিকাশি, পানীয় জল সরবরাহ থেকে শুরু করে রাস্তা মেরামতির কাজেও ব্যবহার করা যাবে এই অর্থ। এর আগে জুলাই মাসের শুরুতে বনগাঁ, ভাটপাড়া, দাঁইহাট, ধুলিয়ান, গারুলিয়া, গয়েশপুর, জলপাইগুড়ি, খড়দহ, নবদ্বীপ, নৈহাটি, উত্তর বারাকপুর, ওল্ড মালদহ, পুরুলিয়া, রানাঘাট, রিষড়া এবং টিটাগড় পুরসভাকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের প্রথম কিস্তির টাকা দিয়েছিল কেন্দ্র। তারও আগে ৮৯টি পুরসভার এই খাতের ৩৫৭ কোটি টাকা ছাড়া হয়েছিল। নির্বাচিত বোর্ড থাকলে এবং পুরসভার নিজস্ব আয়বৃদ্ধির হার রাজ্যের জিএসডিপি’র থেকে বেশি হলে তবেই মেলে এই খাতের টাকা। নির্বাচিত বোর্ড না-থাকার কারণে ১৪টি পুরসভার টাকা পাওয়া যায়নি। এছাড়া নিজস্ব আয়বৃদ্ধির শর্ত পূরণ না-হওয়ায় দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পায়নি দু-তিনটি পুরসভা।