


দুবাই: হাফ প্যান্টের বন্ধু বলাই যায়। দশ বছর বয়স থেকেই গলায় গলায় ভাব শুভমান গিল ও অভিষেক শর্মার। অনূর্ধ্ব-১২ পর্যায় থেকেই দু’জনে পাঞ্জাব দলে। সেই বন্ধুত্বই পূর্ণতা পেয়েছে এখন ভারতের টি-২০ টিমে। রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুপার ফোরের ম্যাচে অভিষেক-শুভমানের ওপেনিংয়ে ওঠে ১০৫। সেটাই গড়ে দেয় ১৭২ রানের টার্গেট হেলায় তাড়া করার ভিত।
অথচ, দুজনের খেলার ধরন আলাদা। অভিষেক তুলে তুলে মারায় বিশ্বাসী। হাবেভাবে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। অন্যদিকে, শুভমান শান্ত স্বভাবের। ফিল্ডিংয়ের ফাঁক খুঁজে জমিতে শট খেলতেই বেশি ভালোবাসেন। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দুই ওপেনারকে এই বৈপরীত্য নিয়ে বলেছেন, ‘এটা হল বরফ ও আগুনের কম্বিনেশন। ওরা একে অন্যের পরিপূরক। কেউ দুর্দান্ত ছন্দে থাকলে অন্যজন ধীরেসুস্থে খেলে। খুচরো রানে জোর দেয়। ওদেরকে এভাবেই খেলতে দেখতে চাই। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই ম্যাচে শুরুটা ভালো হওয়া জরুরি ছিল। আর ওরা ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছে।’
এশিয়া কাপের প্রথম ৩ ম্যাচে গিলের ব্যাটে এসেছিল মাত্র ৩৫। পাকিস্তান ম্যাচের আগের দিন আইসিসি অ্যাকাডেমিতে গিয়ে সেজন্যই বন্ধুর প্র্যাকটিসে সাহায্য করেছিলেন অভিষেক। দীর্ঘক্ষণ বল করেন নিজেই। আর সেটাও আবু ধাবিতে ম্যাচ খেলে লম্বা বাসজার্নি করে দুবাইয়ে ফেরার পরদিন। দলের বেশিরভাগ সদস্যই সেদিন বিশ্রামে ছিলেন। আর এই বন্ধুত্বের সুফলই পেয়েছে ভারত। সূর্যর কথায়, ‘মাঠের বাইরে বন্ধু হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে ওপেন করার সময় এই বন্ডিং জরুরি। সেক্ষেত্রে সিঙ্গলস নেওয়ার সময় মুখে কিছু না বলে চাহনি দিয়েই মনোভাব বোঝানো যায়। ভালো-খারাপ সময়ে বন্ধুত্ব কাজে আসে। আর সেটা ওদের একসঙ্গে ব্যাটিংয়ের সময় দেখাও যায়।’
ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে ক্রিকেট মহলে এখন চর্চার কেন্দ্রে অভিষেক। টি-২০ ক্রিকেটে তিনিই র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। সূর্য বলেছেন, ‘ও নিজের কথা ভাবে না। দলের প্রয়োজন অনুসারে ব্যাট করে। পাওয়ার প্লে চলাকালীন বড় শট নেয়। দরকার পড়লে তার পরও চালাতে থাকে। আর কখনও প্র্যাকটিস মিস করে না।’ গিলের প্রসঙ্গে ক্যাপ্টেনের মন্তব্য, ‘সবাই জানে ও কেমন ব্যাটসম্যান। কীভাবে রান করতে হবে, তা ওর জানা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ও ঝুঁকি কম নিয়ে খেলেছে। তার পরও রিভার্স সুইপ মেরেছে।’
অভিষেকের জন্য থাকছে বীরেন্দ্র সেওয়াগের পরামর্শও। সুযোগ থাকলে অহেতুক উইকেট ছুড়ে দিও না। সম্প্রচারকারী চ্যানেলে ম্যাচের পর অভিষেককে তিনি বলেছেন, ‘এই কথাটা সুনীল গাভাসকর আমায় বলেছিলেন যে, ব্যাটে-বলে লাগলে যতটা সম্ভব বেশি রানের চেষ্টা করতে। উইকেট যেন ছুড়ে না দিই। কারণ, বড় রানের সুযোগ প্রতিবার আসে না। তুমিও কথাটা মাথায় রেখো।’