নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিএলওদের শুনানি কেন্দ্রে হাজির থাকার নির্দেশ দিল কমিশন। তবে তাঁদের সেখানে কী করতে হবে, সেটা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। শুনানির কাজ দেখভালের জন্য মাইক্রো অবজার্ভাররা থাকবেন। এছাড়া এইআরও, ইআরওরা নথি দেখবেন। বিএলওদের ভূমিকা কী হবে, সেটাও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা জানতে পারেননি। আপাতত বিএলওরা নোটিশ বিলির কাজ করছেন। এই সময় মাঠে রবিচাষের কাজ চলছে। অনেকেই বাড়িতে থাকছেন না। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী শুনানিতে ডাক পাওয়া ব্যক্তি বাড়িতে না থাকলে তাঁর আত্মীয়দের হাতে নোটিশ দেওয়া যাবে। কিন্তু অনেক বাড়িতে কেউই থাকছেন না। এক বিএলও বলেন, কম সংখ্যক ভোটারদের বুথগুলিতে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু যে বুথগুলিতে শুনানিতে ডাক পাওয়া লোকজনের সংখ্যা বেশি, সেখানেই সমস্যা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানে ১ লক্ষ ১০০০জনকে ধাপে ধাপে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। কবে কোথায় হাজির হতে হবে, তা জানানো হচ্ছে। শুনানি কেন্দ্রে কেউ হাজির হতে না পারলে আগাম জানাতে হবে। জেলায় নতুন ভোটারদের নাম তোলাতেও জোর দেওয়া হয়েছে। ফর্ম নেওয়ার জন্য ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ বেশি রয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, নতুন ভোটারদের নাম তোলার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁরা অনলাইনেও আবেদন করতে পারেন। তবে, সেক্ষেত্রেও ঘোষণাপত্র জমা করতে হবে। তা বিএলওদের কাছে পাওয়া যাবে। জেলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় দু’লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তবে, নতুন নাম উঠলে জেলায় ভোটারের সংখ্যা আগের মতোই হতে পারে।
জেলায় এখন মোট ভোটার ৩৯ লক্ষ ৭০ হাজার ৬২০ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২০ লক্ষ ১৯ হাজার ৩৯৪ জন। মহিলা ভোটার রয়েছেন ১৯ লক্ষ ৫১ হাজার ১৭৫ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৫১ জন। শহর কেন্দ্রিক বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ভোটারের সংখ্যা বেশি। যেসব বুথে ১২০০জনের বেশি ভোটার রয়েছে, সেখানে নতুন কেন্দ্র তৈরি হবে। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সেই কাজ হবে। কোথায় কোথায় নতুন বুথ তৈরি হবে, তা নিয়ে আধিকারিকরা সমীক্ষার কাজ শুরু করেছেন। তবে, আপাতত শুনানিপর্ব সুষ্ঠুভাবে শেষ করাই তাঁদের টার্গেট। প্রতিদিন ৭০-১০০জন শুনানিতে ডাক পাবেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশও থাকবে। এছাড়া, কমিশনের নির্দেশমতো শুনানি কেন্দ্রে পরিকাঠামোও তৈরি হচ্ছে।