


সাগর রজক, মানিকচক: বিধানসভার নির্বাচনের দোরগোড়ায় এসে মানিকচকে মুখ থুবড়ে পড়ল বিজেপির সংখ্যালঘু সংগঠন। বিভাজনের রাজনীতি, মুসলিম বিদ্বেষ ও এসআইআর-এর প্রতিবাদে বিজেপি ছাড়লেন রাজ্য সংখ্যালঘু সেলের সদস্য সহ পাঁচ নেতা।
এসআইআরে যেভাবে সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাতে বিজেপি ওই সমস্ত এলাকায় ভোট প্রচারে যেতে ভয় পাচ্ছে বলে একদিন আগেই আক্রমণ করেছেন মানিকচকের বামপ্রার্থী। তাই ড্যামেজ কন্ট্রোলে সংখ্যালঘু নেতৃত্বকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা ছিল বিজেপির। কিন্তু তার আগেই সবকা সাথ, সবকা বিকাশ স্লোগানের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন দলেরই নেতারা। বিজেপি সাম্প্রদায়িক, বিভাজনকারী ও মুসলিম বিদ্বেষী বলে অভিযোগ করে দল ছাড়লেন জেলায় দলের পাঁচ সংখ্যালঘু মুখ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ২০২১ থেকে ’২৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ মালদহ জেলা বিজেপির সংখ্যালঘু সভাপতি ও বর্তমান রাজ্য কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম, দক্ষিণ মালদহের সংখ্যালঘু সেলের সহ-সভাপতি শেখ জিয়াউদ্দিন, ২৯ নম্বর মণ্ডল বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদক শেখ আনেশ, ওই মণ্ডলের সংখ্যালঘু সেলের সহ-সভাপতি শেখ আব্দুল ও প্রাক্তন জেলা কমিটির সদস্য শেখ জিমিদার।
দলবেঁধে পদত্যাগের ফলে মানিকচকে বিজেপির কোনো সংখ্যালঘু মণ্ডল নেতৃত্বই থাকল না বলে দাবি সালামের। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগদানের সময় বিরোধী দলনেতা ও এবার মানিকচকের বিজেপি প্রার্থী গৌরচন্দ্র মণ্ডল দাবি করেছিলেন বিজেপি সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে চলে। তাই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম তারা একেবারেই মুসলিম বিদ্বেষী।
সালামের আরও অভিযোগ, রাজ্যে ২৯৪টি আসনের মধ্যে একটিতেও কোনো মুসলিম প্রার্থী দেয়নি বিজেপি। এমনকি নির্বাচনি কমিটিতেও কাউকে ঠাঁই দেওয়া হয়নি। এছাড়া, বিভিন্ন সময় দলীয় মঞ্চে সংখ্যালঘু নেতৃত্বকে উঠতেও দেওয়া হত না। যেভাবে এসআইআর করে বেছে বেছে মুসলিমদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তারপর আর বিজেপিতে থাকা সম্ভব নয়। তাই সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছি আমরা।
দলত্যাগীরা এদিন অভিযোগ করেছেন, বিজেপির আমলে সবার বিকাশ হয় না। তাই তাদের আর ওই স্লোগান দেওয়া মানায় না। তাঁরা তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার জন্য মানিকচক ব্লক তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কিছুদিনের মধ্যেই যোগদান করার বিষয়টি কার্যত নিশ্চিত।
যদিও মুসলিম বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি দক্ষিণ মালদহ জেলা বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি ইমরান খানের। বলেন, যাঁরা স্বচ্ছ, তাঁরা বিজেপিতে রয়েছেন। যাঁরা এদিন দলত্যাগ করলেন, কাটমানি খাওয়ার জন্য ফিরে যাচ্ছেন তৃণমূলে।