মালদা, ৭ জুন: মালদার বিখ্যাত হিমসাগর আম। যা শুধু আমাদের দেশেই নয় বরং বিদেশের মাটিতেও এর বিশেষ চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এই আমের বিদেশে রপ্তানি এবার বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কায় ভুগছেন রপ্তানিকারকরা। কারণ, আবহাওয়ার কারণে আমের গায়ে দেখা দিচ্ছে কালো দাগ। এই দাগ রোগ সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এমন আম গ্রহণযোগ্য নয়। আর এতেই উদ্বেগ বেড়েছে রপ্তানিকারকদের মধ্যে।
রপ্তানিকারকরা জানান, আম গাছে থাকা অবস্থায় ফলকে বিশেষ ব্যাগ দিয়ে ঢেকে রাখার পদ্ধতি বা ‘ব্যাগিং’-এর সময় টানা বৃষ্টিপাত এবং পরে তীব্র গরমের জেরে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। সাধারণত ব্যাগিংয়ের মাধ্যমে ফলকে পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা হয় এবং ফলের বাহ্যিক সৌন্দর্যও বজায় থাকে। কিন্তু এ বছর আবহাওয়ার কারণে সেই পদ্ধতিই কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। মালদার কিছু ফল রপ্তানিকারক সংস্থার তরফে জানা গিয়েছে এই সপ্তাহেই হিমসাগর আমের প্রথম ফলন আমেরিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আমের গায়ে কালো দাগ দেখা দেওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ' এই দাগযুক্ত আম বিদেশে পাঠালে আমদানিকারকরা তা ফিরিয়ে দিতে পারেন। ফলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে'।
উল্লেখ্য, গত বছর মালদা থেকে মাত্র ১৫ মেট্রিক টন আম পাঁচটি দেশে রপ্তানি করা হয়েছিল। চলতি মরশুমে সেই পরিমাণ ৩০০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টনে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছিল রপ্তানিকারক ও প্রশাসন। কিন্তু এই কালো দাগ এখন ঘুম উড়িয়েছে রপ্তানিকারকদের। হিমসাগর ছাড়াও ল্যাংড়া, লক্ষ্মণভোগ, আম্রপালি এবং মালদা ও মুর্শিদাবাদের লিচু এ বছরের রপ্তানি তালিকায় থাকার কথা ছিল। যদিও কালো দাগের সমস্যায় কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তবুও রপ্তানিকারকদের আশা, সুস্থ ও মানসম্মত ফল বাছাই করে বিদেশি বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।