নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মঞ্চ প্রস্তুত। বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণে গোটা গোবিন্দপুর গ্রাম সকাল থেকে অপেক্ষা করছিল মুখ্যমন্ত্রীর জন্য। তাঁর গাড়ির কনভয় মঞ্চের পাশে এসে দাঁড়াল। কিন্তু মঞ্চে না উঠে আগেই তিনি ছুটে গেলেন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সন্তানহারা মা-বাবাদের কাছে। জেসিকা, তামান্না, ফারহানা ও ইসানুরের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন শুভেন্দু অধিকারী। কয়েক মুহূর্তেই মুখ্যমন্ত্রী হয়ে উঠলেন মৃত চার শিশুর পরিবারের একজন। চোখের জল মুছতে মুছতে স্বজনহারাদের জড়িয়েও ধরলেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই আন্তরিকতায় মুগ্ধ গোটা গোবিন্দপুর।
গত শুক্রবার গোবিন্দপুরে ট্রেন ও পুলকারের সংঘর্ষে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল গ্রামের চার শিশু ও এক সাইকেল আরোহীর। জখম হয়েছেন আরও কয়েকজন। তাদের সকলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে এদিন গোবিন্দপুরে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। মৃতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকা এবং জখমদের এক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে এবং তাঁর আন্তরিকতা দেখে স্বজনহারারা চাকরির আবদারও করলেন। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করছেন তাঁদের। সভা শেষে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন জখম ছাত্রী অনিশা খাতুনকে দেখতেও যান শুভেন্দু।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ছোটো ফুলের মতো শিশুরা যেভাবে এই দুর্ঘটনায় শিকার হয়েছেন, দুঃখপ্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। অর্থ দিয়ে এই ধরনের ক্ষতি পূরণ করা যায় না। তবুও এই সরকারের দায়িত্ব আছে, সরকার মানবিক। চোখের জল ছাড়া কিছুই দেওয়ার নেই। উপরওয়ালা এই পরিবারগুলিকে শক্তি দিক, তাঁরা যেন শোক কাটিয়ে উঠতে পারে।’ প্রচারের জন্য একাজ করছেন না বলেও সাফ জানিয়েছেন শুভেন্দুবাবু। বলেছেন, ‘সরকারি অর্থ দিয়েছি, এটা আমার অর্থ নয়। এর বাইরে পরিবারগুলি যা চেয়েছে, তার কিছু দায়িত্ব আমি এসপি ও ডিএমকে দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া আমার দু’-একটি দায়িত্ব আছে, সেগুলি আমি ১৫ দিনের মধ্যে করব।’ পরিযায়ী শ্রমিকদের এই পরিবারগুলি স্থানীয় এলাকায় কাজের দাবি জানিয়েছেন। তাদেরকে সিভিকের চাকরি দেওয়া হচ্ছে বলেই খবর। দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত গেটম্যানের ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্টে’র জন্য দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া শেষের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।