অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: কেন্দ্র সরকারের নীতি আয়োগের অ্যাসপিরেশনাল ডিস্ট্রিক্টস প্রোগ্রাম বা এডিপি-এর আওতায় এনে উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দেওয়া হল পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি জেলাকে। তালিকায় রয়েছে নদীয়া, মালদহ, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান ও দক্ষিণ দিনাজপুর। ফলে দেশজুড়ে এডিপি জেলার সংখ্যা দাঁড়াল ১১৭টি। ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচি নিয়ে জেলাগুলিতে প্রশাসনিক বৈঠক শুরু হয়েছে। উন্নয়নমূলক কাজে দেশের অন্যান্য জেলার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় শামিল হল এই পাঁচটি জেলা।
এডিপি কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাছ থেকে প্রতি মাসে কাজের রিপোর্ট সংগ্রহ করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রতি তিন মাস অন্তর জেলার মূল্যায়ন ও রাঙ্কিং প্রকাশ করবে নীতি আয়োগ। যে জেলা প্রথম হবে, তারা পাবে ১০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানাধিকারী জেলা পাবে ৫ কোটি টাকা।
গত ১৫ জুলাই নদীয়ায় নীতি আয়োগের নোডাল অফিসার রূপালি গুপ্তা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, ব্যাঙ্কিং সহ একাধিক দপ্তরের আধিকারিকরা সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। নীতি আয়োগের প্রতিনিধি দল তিনদিন ধরে নদীয়ায় অবস্থান করে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বৈঠকে বিভিন্ন দপ্তরের প্রাথমিক রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের সামগ্রিক রিপোর্ট তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এরপর প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
নীতি আয়োগের অন্যতম কাজ হল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় রেখে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অ্যাসপিরেশনাল ডিস্ট্রিক্টস প্রোগ্রাম চালু করেন। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য তিনটি—কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় সাধন, কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ের নোডাল অফিসার এবং জেলাশাসকদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রতি মাসের ডেল্টা র্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে জেলাগুলির মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা বজায় রাখা।
এতদিন দেশজুড়ে এই কর্মসূচির আওতায় ছিল ১১২টি জেলা। পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি জেলা যুক্ত হওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১৭। নীতি আয়োগের নির্দিষ্ট পোর্টালে ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত জেলাগুলির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সূচকের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। কোন জেলা কোন ক্ষেত্রে এগিয়ে বা পিছিয়ে রয়েছে, তাও সেখানে দেখা যাচ্ছে।
জানা গিয়েছে, প্রায় ৮০টি সূচকের ভিত্তিতে জেলার উন্নয়ন মূল্যায়ন করা হবে। যেমন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা, নাবালিকা মাতৃত্বের হার, শিক্ষা ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি-সহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হবে। প্রতি মাসে সংশ্লিষ্ট তথ্য নীতি আয়োগের নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করতে হবে জেলা প্রশাসনকে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতি মাসে জেলার অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর র্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হবে।
প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘প্রতি তিন মাস অন্তর জেলাগুলির র্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হবে। প্রথম স্থানাধিকারী জেলা ১০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় স্থানাধিকারী জেলা ৫ কোটি টাকা পাবে। তবে কোনও জেলা যদি একই অর্থবর্ষের চারটি কোয়ার্টারেই প্রথম হয়, তা হলেও ৪০ কোটি টাকা পাবে না। একটি অর্থবর্ষে প্রথম স্থানাধিকারী জেলার জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকাই বরাদ্দ।’ প্রশাসনের দাবি, এই কর্মসূচির ফলে জেলাগুলির মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। তার ফলে সারা বছর উন্নয়নমূলক কাজের গতি ও মান আরও বাড়বে।