নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ইস্যু হওয়া জন্ম শংসাপত্র জমা দিয়ে যত পাসপোর্ট করানো হয়েছিল, সেগুলি বাতিল করতে তৎপর হয়েছে লালবাজার। কারণ, ওই শংসাপত্রগুলি ভুয়ো। এই ধরনের জাল নথি জমা করে যারা পাসপোর্ট জোগাড় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সবরকম আইনি পদক্ষেপ করতে চলেছে লালবাজার। ইতিমধ্যে যারা এভাবে ইস্যু হওয়া পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে চলে গিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারির সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভুয়ো বার্থ সাটিফেকেট যারা নিয়েছে, তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য পঞ্চায়েত ও স্বাস্থ্যদপ্তরকেও চিঠি দিচ্ছে সিকিওরিটি কন্ট্রোল অরগানাইজেশন (এসসিও)। সেই সঙ্গেই পাসপোর্টগুলি বাতিল করতে আরপিও দপ্তরকে চিঠি পাঠাচ্ছে তারা।
ভুয়ো নথির ভিত্তিতে পাসপোর্ট জোগাড়ের তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, সিংহভাগ জাল বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবার প্রত্যন্ত এলাকার পাঠানখালি পঞ্চায়েত থেকে। সেখানকার এক চুক্তিভিত্তিক কর্মী গৌতম সর্দার হল এই চক্রের মূল মাথা। তার হাত দিয়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল-মার্চ পর্যন্ত প্রায় চার হাজার ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে। দেখা যায়, যাদের নামে এই শংসাপত্রগুলি ইস্যু হয়েছে, তারা সেখানকার কোনও হাসপাতাল, নার্সিংহোম বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্মায়নি। তা থেকে স্পষ্ট হয় যে শংসাপত্রগুলি জাল। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা দালালের মাধ্যমে এই শংসাপত্র কিনেছে। তারপর সেই নথি জমা করা হয়েছে ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য। এরপরই গৌতমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জেরায় জানা যায়, পঞ্চায়েত প্রধানের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড তার কাছেই থাকত। এমনকী, প্রধানের ফোনও তার কাছেই থাকত। সেই ফোনে ওটিপি এলে তবেই জন্ম-মৃত্যুর তথ্য আপলোডের পোর্টাল খুলত। পরে সে নিজের একটি মোবাইল নম্বরেই ওই ওটিপি আসার ব্যবস্থা করে নেয়। ধৃত পুলিসের কাছে স্বীকার করে নেয়, দালালদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে সে জন্মের শংসাপত্র তৈরি করেছে। সেই সব ভুয়ো সার্টিফিকেট দালালরা কিনেছে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরির জন্য। পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, গত চার বছরে এভাবে অন্তত চার হাজার পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছে। পাসপোর্ট প্রাপকদের একটা বড় অংশ ইতালি, থাইল্যান্ড, দুবাই সহ বিভিন্ন দেশে চলেও গিয়েছে ইতিমধ্যে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এভাবে পাসপোর্ট জোগাড় করেছে যে বাংলাদেশিরা, তাদের মধ্যে কয়েকজন জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেলের সদস্যও রয়েছে। বিষয়টি রীতিমতো উদ্বেগজনক। তারা যাতে চাকরি বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে ভুয়ো শংসাপত্র ব্যবহার করতে না পারে, তার জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকেই চার হাজার নামের তালিকা পাঠানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেশে বা বিদেশে থাকা অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তার করতেই পাসপোর্ট বাতিলের উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে লালবাজার সূত্রে।