Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শীতের খামখেয়ালিপনায় বীরভূমে গুড়ের মান নিয়ে উদ্বেগে শিউলিরা

তাঁদের কারও বাড়ি নদীয়া তো কারও মুর্শিদাবাদে। শীত এলেই এঁরা এসে হাজির হন বীরভূম জেলার নানান প্রান্তে। খেজুর গাছ থেকে টাটকা রস সংগ্রহ করে, তা দিয়েই বানান নলেন গুড়।

শীতের খামখেয়ালিপনায় বীরভূমে গুড়ের মান নিয়ে উদ্বেগে শিউলিরা
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, সিউড়ি: তাঁদের কারও বাড়ি নদীয়া তো কারও মুর্শিদাবাদে। শীত এলেই এঁরা এসে হাজির হন বীরভূম জেলার নানান প্রান্তে। খেজুর গাছ থেকে টাটকা রস সংগ্রহ করে, তা দিয়েই বানান নলেন গুড়। আর তা কিনতেই ভিড় করেন খাদ্যরসিকরা। পেশাগত ভাবে কেউ দিনমজুর বা অন্যকোনও কাজ করে থাকলেও শীতের মরশুম এলেই তাঁরা হয়ে ওঠেন শিউলি।

Advertisement

বাতাসে পারদ নামতেই খোঁজ পড়ে নলেন গুড়ের। নতুন নলেন গুড় যেন উৎসবের বার্তা বয়ে আনে। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তা থেকেই বানানো হয় নলেন গুড়। শীতের প্রতীকী এই খাবারের মধ্যে অন্যতম নলেন গুড়। তাই প্রতিবছরই শীতের সময় ভিন জেলা থেকে শিউলিরা এসে বীরভূমে হাজির হন। কোথাও বিনামূল্যে তো কোথাও ভাড়া দিয়ে খেজুরের গাছ নিয়ে সেখান থেকে গুড় তৈরি করে থাকেন তাঁরা। ব্যতিক্রম হয়নি এবছরও।
শিউলিদের থেকে জানা গিয়েছে, বর্ষা বিদায়ের পর থেকেই শুরু হয়ে যায় তাঁদের খেজুর গাছ ঝোড়ার কাজ। তারপর সপ্তাহে দু’›দিন কিংবা খুব বেশি হলে তিন দিন শিউলিরা গাছ কেটে রস বের করে থাকেন। এই রস তৈরি করতে যেমন পরিশ্রম তেমনি জ্বালানির প্রয়োজন হয়। অনেকে আবার জমির মালিকের থেকে পুরো মরশুমের জন্য গাছ প্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে কিনে রস বের করার কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেন। অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ ও ফাল্গুন এই চার মাসের জন্য গাছ ‘লিজে’ নেন শিউলিরা। এবছরও সিউড়ি ও আশপাশের এলাকায় নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ থেকে শিউলিরা এসে হাজির হয়েছেন। কিন্তু শীতের এই খামখেয়ালিপনার জন্য তাঁদের ব্যবসা প্রভাবিত হচ্ছে। কারণ শীত এখনও জাঁকিয়ে পড়েনি। জাঁকিয়ে শীত পড়লেই খেজুরের রসের মান ভালো হয়। তাতেই গুড়ের স্বাদ বেড়ে যায়। তবে এবছর এই জেলায় এখনও সেই অর্থে শীতের প্রভাব দেখা যায়নি। কিন্তু যে রস মিলছে, তা দিয়েইগুড় বানাচ্ছেন তাঁরা। বিক্রেতাদের থেকে জানা গিয়েছে, এবছর গুড়ের গুণগত মানের উপর নির্ভর করে ১৫০ টাকা, ২০০ টাকা এবং ২৫০ টাকা কেজি হিসাবে তিন ধরনের গুড় বিক্রি করছেন। তবে শীত বাড়লেই এই গুড়ের স্বাদ আরও ভালো হবে বলে দাবি তাঁদের।
নদীয়ার তেহট্টের বাসিন্দা মুক্তার শেখ বলেন, পাঁচ বছর ধরে শীতের সময় সিউড়ি আসি। এখানেই বিনামূল্যে গাছগুলি পেয়ে যায়। তা থেকেই আমরা খেজুর গুড় বানাই। চাহিদা আছে ভালোই। আসলে এই চারমাসে মোটামুটি ভালোই আয় হয়। একই কথা বলছেন আরেক বিক্রেতা ইকবাস শেখ। তিনি বলেন, দিনমজুরি করে থাকি। তবে শীতকালে এই গুড়ের ব্যবসায় আয় একটু বেশিই  হয়। তাই চার মাসের জন্য এসে থাকি। 
মুর্শিদাবাদ থেকে এসেছেন শেখ ইনতেয়াজ ও শেখ সাবির। তাঁরা বলেন, চাহিদা আছে ভালোই। তবে ঠান্ডা সেই অর্থে পড়েনি। ঠান্ডা পড়লে আরও চাহিদা বাড়বে, গুড়ের।

সম্পর্কিত সংবাদ