স্ত্রী ও বাবার মুণ্ড কেটে মা কালীকে ‘ভোগ’, সোনামুখীতে নারকীয় হত্যাকাণ্ড
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: অষ্টমীর সন্ধ্যায় নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল সোনামুখী। হারানো ছেলেকে ফিরে পেতে স্ত্রী ও বাবার মুণ্ড কেটে মা কালীকে ‘ভোগ নিবেদন’ করার অভিযোগ উঠল সদ্য তন্ত্রসাধনা শুরু করা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অনেক চেষ্টার পর লালবাবা চর থেকে মঙ্গল চৌধুরী নামে ওই তান্ত্রিককে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটি জেনে ফেলায় নিজের ভাইকেও কাটারি নিয়ে তাড়া করে অভিযুক্ত মঙ্গল। তিনি কোনওরকমে দৌড়ে দামোদরের চরে লুকিয়ে প্রাণে বাঁচেন। গ্রামবাসীরা জড়ো হলে তাঁদের দিকেও কাটারি নিয়ে তেড়ে যায় মঙ্গল। শেষ পর্যন্ত পুলিশ মাইকিং করে তাকে আত্মসমর্পণ করাতে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালায়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

Advertisement

পুলিশের জানিয়েছে, নিহত দু’জনের নাম যথাক্রমে রুম্পা চৌধুরি (৩৯) ও রাজেন্দ্র চৌধুরি (৬০)। রুম্পা মঙ্গলের স্ত্রী। রাজেন্দ্র তার বাবা। দু’জনেরই ধড় থেকে মুণ্ড আলাদা করে দেওয়া হয়। বাঁশের বেড়ার ভেতরে মা কালীর সামনে মাটির সরায় দু’টি মুণ্ড রাখা হয়। তাজা রক্তে প্রায় ভরে গিয়েছিল সরা। বাড়ির উঠানে দু’জনের ধড় পড়ে ছিল। পুলিশ গিয়ে সেগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত মঙ্গলের আঙুলে ক্ষত থাকায় চিকিৎসার জন্য  তাকে বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,লালবাবা চরের বাসিন্দা রাজেন্দ্রর দুই ছেলে। মঙ্গল বড়ো। মঙ্গলের স্ত্রী ও এক প্রতিবন্ধী ছেলে থাকতেন। এছাড়াও রাজেন্দ্রর ছোট ছেলে ও তার পরিবার পাশাপাশি সেখানে থাকেন। মঙ্গলের বড়ো ছেলেও মানসিক প্রতিবন্ধী। চিকিৎসা করাতে গিয়ে সে হারিয়ে যায়। তার মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বড় ছেলে হারানোর পর তাকে ফিরে পেতে মঙ্গল তন্ত্রসাধনা শুরু করে। প্রায়ই মঙ্গল ও তাঁর স্ত্রীকে স্থানীয় কালী মন্দিরে পুজো করতে দেখা যেত। পরিবারের লোকেদের অনুমান, সোমবার সন্ধ্যায় পাড়ার অনেকেই পুজো দেখতে পানাগড় চলে যান। ওই সময় এলাকা ফাঁকাই ছিল। সেই সুযোগে মঙ্গল প্রথমে নিজের আঙুল কেটে মা কালীকে অর্পণ করে। পরে তার স্ত্রী রুম্পা এবং তার বাবা রাজেন্দ্রকে কাটারি দিয়ে ধড় ও মুণ্ড আলাদা করে দেয়। একটি বাঁশের চালা ঘরের ওই কালী মন্দিরে মুণ্ড দু’টি রেখে দেয়। ওই সময় রাজেন্দ্রর ছোট ছেলে বাড়ির পৃথক একটি ঘরে ছিলেন। তিনি আওয়াজ শুনে বাইরে আসতেই তার দাদা তাঁকে কাটারি উঁচিয়ে তাড়া করে। কোনওরকমে তিনি দৌড়ে পালিয়ে বাঁচেন। খবর চাউর হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা চলে আসেন। তখন মঙ্গল তাদেরকেও তাড়া করে। খবর পেয়ে পুলিশ চলে আসে। দীর্ঘক্ষনের চেষ্টার পর তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। রাজেন্দ্রর ছোট বৌমা সরস্বতী চৌধুরি বলেন, ‘আমরা কয়েকজন মিলে পানাগড়ে দুর্গাপুজোর মেলা দেখতে গিয়েছিলাম। ফোনে শ্বশুর ও জা’কে খুনের ঘটনার কথা জানতে পারি। ভাসুর বলত মায়ের পুজো দিতে পারলে তার হারানো ছেলে ফিরে আসবে। কিন্তু সে যে এরকম কাণ্ড ঘটাবে, তা আমরা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। 
গ্রামবাসীরা বলেন, ঘটনাটি জানার পর মঙ্গলকে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সে ভীষণ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল। কাটারি নিয়ে তেড়ে আসছিল। তাই ভয়ে কেউ কাছে ঘেঁষতে পারেনি। পুলিশ এসেও দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে মঙ্গলকে গ্রেপ্তার করে।