দুর্গাপুরে বিজয়ার অনুষ্ঠানে বিজেপি নেতার পাশে বালি কারবারি,বিতর্ক
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: তৃণমূল জমানায় যাঁর অবৈধ বালি কারবার, লোহার ব্যবসা ও পার্কিং নিয়ে সরব হয়েছিল বিজেপি, বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে সেই কেবু ওরফে সুজয় পাল ওরফে কেবুর উপস্থিতি ঘিরে অস্বস্তিতে পড়ল বিজেপি। দুর্গাপুর চণ্ডীদাসে বিজেপির যুবনেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচালিত পুজোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ দত্তের পাশের চেয়ারে কেবুকে বসে থাকতে দেখা যায়। যা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ওই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও ছবির সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। 

Advertisement

তৃণমূল আমলে এই কেবুর বিরুদ্ধে সাইকেল স্ট্যান্ড দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ের অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। দু’বার তাঁকে গ্রেপ্তারও করেছিল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আ‌ইনে মামলা সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই কেবুকেই বিজেপির যুবনেতার পরিচালিত পুজোর মঞ্চে বসতে দেখা যাওয়ায় বিরোধীরা আক্রমণ শানিয়েছে। জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, এই কেবুকে নিয়ে এর আগেও বহু বিতর্ক হয়েছে। তৃণমূল আমলে কেবুর সাইকেল স্ট্যান্ড ও অবৈধ পার্কিং নিয়ে বিজেপির দুই বিধায়ক খুব লাফাতেন। এখন সেই সেই কেবুই বিজেপির অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা পাচ্ছেন। বিজেপির নেতা, বিধায়ক, মন্ত্রীরা আজ এই সমস্ত অপরাধীদের কাছ থেকে টাকা চাইছেন। এদের টাকায় পুজো হচ্ছে। বিজেপির ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে কেউ পরিষ্কার হতে পারে না, চোর বরাবর চোরই থাকে। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সিদ্ধার্থ বসু বলেন, লোহা ও বালি মাফিয়া কেবু পুজোতে টাকা ঢেলেছেন তাই সংবর্ধনা পেয়েছেন। বিজেপি বরাবরই এইসমস্ত মাফিয়া, প্রোমোটার এবং দু’নম্বরি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত লোকদের সঙ্গে জড়িত, এদের ছাড়া তাদের চলবে না। তৃণমূল আমলে যত দুর্নীতি ঘটেছে বিজেপি তারও উপরে।
যদিও বিতর্কের পালটা সুর চড়িয়েছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, পুজো কমিটি কাকে ডাকবে সেটা তাদের নিজস্ব রুচির ব্যাপার। ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক মঞ্চে ঘটেনি। তবে অপরাধ করলে কেউ পুজো কমিটির ঘনিষ্ঠতার জোরে দলে ঢুকে পার পেয়ে যাবেন তা হবে না। পুজো মিটেছে। ডিভিসির জমি থেকে কেবুকে উচ্ছেদ করার উদ্যোগ আমিই নেব।
জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ দত্ত সাফাই দিয়ে বলেন, আমি কলেজ জীবন থেকে নচিকেতার ফ্যান, তাই তাঁর গান শুনতে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। আমার পাশে কে বসেছিলেন তাঁকে চিনতাম না। পরে জানতে পারি উনি কেবু। এটি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ছিল না, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল। এর সঙ্গে দলের কোনো যোগাযোগ নেই। বিজেপি বরাবরই সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে। কেবুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্যি হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। যদিও পুজোর উদ্যোক্তা বিজেপির যুবনেতা পরিজাতবাবু প্রশ্ন শুনে ফোন কেটে দেন। মেসেজ পাঠানো হলেও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।