সংবাদদাতা, কালিয়াগঞ্জ: দশমীতে দেবী দুর্গার প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে চারিদিকে যখন বিষাদের সুর, তখনই নতুন করে ঢাকের বাদ্যি বেজে ওঠে রায়গঞ্জ ব্লকের খাদিমপুরে। উত্তর দিনাজপুর জেলার এই গ্রামে দশমীর রাতে হয় মায়ের বোধন। দুর্গোৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন খাদিমপুরের বাসিন্দারা। এখানে ‘বালাইচণ্ডী’ রূপে দুর্গার আরাধনা হয়। এই উপলক্ষ্যে একসপ্তাহ ধরে চলবে পুজো ও মেলা। সেই সঙ্গে থাকবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের কথায়,বহুকাল ধরে খাদিমপুরে বালাইচণ্ডীর পুজো হয়ে আসছে। আগে গোটা এলাকা জঙ্গলে ঘেরা ছিল। কয়েকশো বছর আগে জঙ্গলের মধ্যে একটি পাথরে পুজো হতো। পরবর্তীতে দেবী বালাইচণ্ডীর মূর্তি তৈরি করে পুজো শুরু হয়। যা এখনও ধুমধাম করে নিষ্ঠা সহকারে পুজো হয়ে আসছে।
খাদিমপুর গ্রাম কমলাবাড়ি হাট সংলগ্ন। গ্রামটি রায়গঞ্জ ব্লকের অধীনে। গ্রামে চার বিঘা জমির মধ্যে একটি পুরনো গাছের তলায় বহুদিন মাটির ঘরে এই পুজো হত। পরে ইটের দেওয়াল ও টিনের চাল দেওয়া মন্দির তৈরি হয়। দশমীর রাতে বালাইচণ্ডীর আরাধনা শুরু হত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাঁচা মন্দির পাকা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বুধবার, দশমীর রাতে ধুমধাম করে বালাইচণ্ডী দেবীর পুজো শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনভর পুজো হয়েছে। পুজো উপলক্ষ্যে খাদিমপুর গ্রামে বসেছে মেলা। এই পুজোয় বলিপ্রথা রয়েছে। যা এখনও হয়। পাঁঠা ও পায়রা বলি দেওয়া হয়। পুজোর দিন দেবীকে সোনা ও রুপোর গয়না পরিয়ে সাজানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা গোবিন্দ বর্মন বলেন, দশমীর রাতে দেবীর মূল পুজো হয়েছে। তবে এক সপ্তাহ ধরে মন্দিরে পুজো চলবে। মেলাও বসেছে।
পুজো কমিটির সম্পাদক বিশ্বনাথ বর্মন বলেন, দেবী দুর্গা এখানে মা চণ্ডী রূপে পূজিতা। এই দেবী প্রতিমার সঙ্গে দুর্গা প্রতিমার পার্থক্য রয়েছে। এখানে দুর্গার সঙ্গে মহিষাসুর থাকে না। এখানে দুর্গা দশভুজা নন। এখানে দেবীর চার হাত।
এখনও দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এই পুজোয় আসেন। আর পাঁচজন বাঙালি যেমন বছরের প্রথমদিন থেকেই দুর্গাপুজোর প্রতীক্ষায় থাকেন, ঠিক তেমনই খাদিমপুরের মানুষ বালাইচণ্ডী পুজোয় অপেক্ষায় থাকেন। কবে দুর্গাপুজো শেষ হবে, সেই প্রতীক্ষায় থাকে গোটা খাদিমপুর। কারণ, দশমী এলেই রাতে বোধন হবে বালাইচণ্ডীরূপী এই দেবী দুর্গার। পুজোর দিন গোটা গ্রামের মানুষ নিরামিষ খান। পরিবারের মঙ্গল কামনায় দেবীর আরাধনা করেন।



