নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে শিল্পাঞ্চলবাসী দুর্গাপুজোর উৎসবে মাতলেও বহু পরিবারেই নেমে এল শোকের ছায়া। কলকাতার মতো মণ্ডপে বিপর্যয় না ঘটলেও শিল্পাঞ্চলের রাস্তাগুলি সাক্ষী রইল একের পর এক পথ দুর্ঘটনার। কোথাও বাইক থেকে ছিটকে প্রাণ হারালেন বন্ধু, বান্ধবীরা। কোথাও আবার দুই বেপরোয় বাইকের সংঘর্ষে দু’জনের প্রাণ গিয়েছে। হাসপাতাল থেকে শ্মশানে দুর্ঘনটায় মৃত্যু হওয়া শবের ভিড়ে পুজোর দিনে কান্নায় ভেঙে পড়েন আত্মীয়, পরিজনরা।
পুলিশের দাবি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনা হয়েছে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য। তা নিয়ন্ত্রণে করতে পুলিশের পদক্ষেপের কথাও তারা তুলে ধরেছে। অন্যদিকে এই দুর্ঘটনার জন্য বিরোধীরা শিল্পাঞ্চলের ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটকেই দায়ি করেন।
দ্বিতীয় সপ্তমীর ভোরে পথ দুর্ঘটনা হয় দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের অদূরে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে। ভিড়িঙ্গি মোড় থেকে একটি বাইক যাচ্ছিল পিয়ালা কালীবাড়ির দিকে। বাইকটি দ্রুতগতিতে ধাক্কা মারে একটি চারচাকা গাড়িকে। বাইকে থাকা দুই যুবক ও এক যুবতী ছিটকে পড়েন রাস্তায়। দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিন রাতেই দুর্গাপুরের কুমার মঙ্গলম পার্কের সামনে ঘটে বাইক দুর্ঘটনা। রাতে চলছিল বাইকে চড়ে ঠাকুর দেখা। সেই সময়েই দু’টি বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ছিটকে পড়েন দুই বাইকে থাকা চারজন। চারজনই জখম হন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন। এরা হলেন ৫৪ ফুট এলাকার ১৬ বছর বয়সী কিশোর অনির্বাণ চক্রবর্তী ও অন্য জনের নাম সাহিল শর্মা (২২)। সাহিল বেনাচিতির বাসিন্দা।
এদিকে অষ্টমীর সকালে কাঁকসা থানা এলাকায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হয়। চার চাকা গাড়িতে করে কাঁকসা থেকে একজন দর্শণার্থী ঠাকুর দেখতে যাচ্ছিলেন। সেই সময়ে চারের মাইলের জঙ্গলের কাছে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান কাঁকসার মাধব মাঠের বাসিন্দা সৌগত সাহা (৪৭) ও সুধাময় মেটে (২৬)।
দুর্ঘটনা হয়েছে কুলটি ও আসানসোল দক্ষিণ থানা এলাকারেও। একের পর এক পথ দুর্ঘটনায় মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ কর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের পর সেখান থেকে দেহ দেওয়া হয়েছে পরিবারের হাতে। দুর্গাপুজোর শেষ চারদিনেই জেলায় দুঘর্টনায় মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। যদিও ট্রাফিক বিধি ভঙ্গর জন্য ৩ হাজার ৮০০ মামলা হয়েছে। পুলিশের মামলা দেওয়ার এই নজরকাড়া পরিসংখ্যান সত্বেও রাস্তায় বেপরোয়া ভাবে বাইক ও গাড়ি চালাতে দেখা গিয়েছে যুবক, যুবতীদের। দুর্গাপুরের মুচিপাড়া ট্রাফিক গার্ডের এক পুলিশ কর্মীকে হেনস্থারও স্বীকার হতে দেখা যায়। অন্য দিকে পুজোয় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে দুর্গাপুরের এক ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার বলেন, একাধিক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। আমরা ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলেই কড়া পদক্ষেপ করেছি। দশমীর ভোরে অণ্ডাল মোড় ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি।



