নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এরাজ্যে মাছের বাজারগুলিতে আসা রুই-কাতলার বেশিরভাগেরই আসল ঠিকানা নাকি অন্ধ্রপ্রদেশসহ দক্ষিণ ভারত। ভিন রাজ্য থেকে ট্রাক বোঝাই মাছ এসে না পৌঁছালে নাকি রান্না বসে না মাছে-ভাতে থাকা বাঙালির। মৎস্যবিলাসে ভিন রাজ্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকার ক্ষেত্রে কি এতটুকু পরিবর্তন হয়নি? সংসদে ওঠা এই প্রশ্নের জবাবে খোদ কেন্দ্রীয় সরকার জানাচ্ছে, আমদানিতে রাশ টেনে মাছ উৎপাদনে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে গিয়েছে বাংলা। রাজ্য দাবি করেছে, কেন্দ্রের পেশ করা পরিসংখ্যানেও ‘জল’ আছে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গ এখন আরো কম মাছ আমদানি করে ভিন রাজ্য থেকে। উলটে এখান থেকে কিছু মাছ পাঠানো হয় ভিন রাজ্যে।
সংসদে বাণিজ্য মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জিতিন প্রসাদের কাছে প্রশ্ন ছিল, গত পাঁচবছরে অন্যান্য রাজ্য থেকে কত মাছ আমদানি করেছে পশ্চিমবঙ্গ? সেগুলি কী জাতীয় মাছ? জবাবে অবশ্য পাঁচবছরের হিসেবের ধারেকাছে যাননি মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে বাংলায় ১ লক্ষ ৫১ হাজার মেট্রিক টন মাছ এসেছিল বাইরের রাজ্য থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তা কমে দাঁড়ায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার মেট্রিক টনে। গত অর্থর্ষে, অর্থাৎ ২০২৪-২৪ সালে তা আরো কমে হয়েছে ১ লক্ষ ২২ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ দুবছরে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন মাছ আমদানি কমাতে সমর্থ হয়েছে বাংলা। এই মাছ এসেছে মূলত অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে। তা মূলত রুই, কাতলার মতো কার্প জাতীয়।
রাজ্য মৎস্য দপ্তরের দাবি, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আটমাসে বাংলায় মাছ উৎপাদিত হয়েছে ২০ লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি। রাজ্যের চাহিদা মেটাতে উৎপাদনের হার যথেষ্ট আশানুরূপ, দাবি সরকারের। রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরীর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার যে তথ্য দিয়েছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক কম মাছ আসে এরাজ্যে। তিনি বলেন, আমরা পাঁচ কেজি বা তার বেশি ওজনের রুই কাতলার চাষে ভালো সাফল্য পেয়েছি। বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানবাড়িতে সেই মাছ সরবরাহ হচ্ছে, যা আগে গোটাটাই দক্ষিণ ভারতের উপর নির্ভরশীল ছিল। বিপ্লববাবুর ব্যক্তিগত উপলব্ধি, ২০ বছর আগে কোলাঘাট হয়ে ভিন রাজ্যের মাছ বোঝাই ট্রাক ঢুকত দিনে অন্তত দেড়শোটি। এখন সেই সংখ্যা ১০ বা তারও কম। বর্তমানে সুফল বাংলা মাছের স্টলের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে। সেখানে স্টল খোলার দু-ঘণ্টার মধ্যে সব মাছ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি তাঁর। পাশাপাশি মৎস্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, বাংলা থেকে বিহার, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডে মাছ রপ্তানি হচ্ছে। বছর খানেকের মধ্যে অন্তত ১০টি রাজ্যে বাংলা থেকে মাছ রপ্তানি সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তিনি।