নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বড়সড় নাশকতা চালানোর আগেই বেঙ্গল এসটিএফের হাতে ধরা পড়ল দুই জেএমবি জঙ্গি। বীরভূম থেকে আজমল হোসেন ও সাহেব আলি খানকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত আজমল হাতুড়ে ডাক্তারের পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনের হয়ে কাজ করছিল। ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ (ভারতবর্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ) রূপায়িত করার লক্ষ্যে তারা অস্ত্র জোগাড় ও বিস্ফোরক তৈরির চেষ্টা করছিল। একইসঙ্গে অনলাইনে নতুন জঙ্গি নিয়োগের কাজও চালাচ্ছিল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ল্যাপটপ ও মোবাইল। খাগড়াগড় বিস্ফোরণে তারা জড়িত ছিল কি না, সেটাও জানার চেষ্টা চলছে।
এসটিএফের অফিসাররা জানতে পেরেছিলেন, বীরভূমে জেএমবি মডিউল সক্রিয় হয়েছে। নতুন লোকজন নিয়োগ চলছে অনলাইনে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন সন্দেহভাজন প্রোফাইলের উপর নজর রাখা শুরু করেন। দেখা যায়, ওই প্রোফাইলগুলিতে জেহাদি ভাবধারা নিয়ে আলোচনা চলছে। দেখা যায়, এই প্রোফাইলগুলি দুজন বিভিন্ন নামে খুলে জঙ্গি ভাবধারা নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। আসল পরিচয় খুঁজতে গিয়ে অফিসাররা জানতে পারেন, এদের একজন বীরভূমের নলহাটির যুবক আজমল ও অন্যজন মুরারইয়ের সাহেব। এরপর এসটিএফের টিম বুধবার গভীর রাতে বীরভূমে তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার করে দুজনকে।
এসটিএফের তদন্তে উঠে এসেছে, আজমল এলাকায় কোয়াক ডাক্তার হিসেবে পরিচিত। তার কাছে চিকিৎসা করাতে আসত নলহাটির মানুষজন। তাদের মধ্যে জঙ্গি ভাবধারা নিয়ে প্রচার চালাত। একইসঙ্গে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে প্রোফাইল খুলে অল্পবয়সি যুবকদের মগজ ধোলাই করে জেএমবি সংগঠনের জন্য নিয়োগ করছিল। ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, জেএমবি তাদেরও নিয়োগ করেছিল সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট মারফত। সীমান্তের ওপার থেকে তাদের কাছে নির্দেশ এসেছিল, সংগঠন চাঙ্গা করতে স্লিপার সেল তৈরি করতে হবে। সেইমতো নতুন ছেলেদের জেএমবিতে নিয়ে এসে আজমল এবং সাহেব আলি মডিউল তৈরির কাজ শুরু করেছিল বলে খবর। তদন্তকারীদের কাছে ধৃতরা জানিয়েছে, তারা বেশ কয়েকজনকে টার্গেট করেছিল। তাদের গতিবিধি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছিল। তাদের উপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল। পাশাপাশি আরও কিছু জায়গায় নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়। সেজন্য অস্ত্র জোগাড় ও বিস্ফোরক তৈরির কাজ শুরু করেছিল। সূত্রের খবর, বাংলাদেশ থেকে তারা অস্ত্র নিয়ে আসত। সেই কারণে আজমল বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু আটকে যাওয়ার বাংলাদেশে থাকা জেএমবির শীর্ষ নেতারা তাকে আগ্নেয়াস্ত্র পাঠাবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। তার মোবাইল ঘেঁটে বাংলাদেশের একাধিক জঙ্গি নেতার নাম মিলেছে। পাশাপাশি এখানে জেএমবির হয়ে কারা সক্রিয়, তাদের তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাদের বিষয়ে খোঁজখবর চলছে।