নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষ্যে রাজ্যে পালিত হল ‘অন্নপূর্ণা দিবস’। অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে রাজ্যের ১ কোটি ৫৬ লক্ষ মহিলাকে প্রতিমাসে ৩,০০০ টাকা দিচ্ছে রাজ্য। এজন্য রাজ্যবাসীর উদ্দেশে এক ভিডিয়ো বার্তাও দিলেন মোদিজি। তাতে প্রধানমন্ত্রীর দাবি, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পেতে এরাজ্যে আর কাটমানি গোনার প্রয়োজন পড়ে না। তাঁর কথায়, ‘বাংলায় এখন কাটমানি, তোলাবাজি নেই।’
প্রসঙ্গত, কয়েকসপ্তাহ ধরেই বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধে ‘তোলাবাজি’র অভিযোগ সংবাদ শিরোনাম দখল করেছে। পালাবদলের পরেও রাজ্যে চলতে থাকা কাটমানি কালচার এবং তোলাবাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে চরম পদক্ষেপ করারও বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এদিনের মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এছাড়া রাজ্যের ৫০ লক্ষ প্রান্তিক মানুষকে ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’য় বাড়ি তৈরির অনুদান প্রদানে পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভিডিয়ো বার্তার পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সংযোজন, এরাজ্যে আবাস যোজনার বাড়িগুলিতে মালিকানাস্বত্ব পাবেন মহিলারা। তবে শুধু ভাতা বা অনুদান দিতে তাঁর সরকার আসেনি বলেও এদিন সাফ জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘এই সরকার এসেছে মূলত সংস্কারের কাজ করার জন্য।’
এদিন অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ৫০ হাজার প্রাপকের উপস্থিতিতে বিধাননগর বইমেলা প্রাঙ্গণে অন্নপূর্ণা দিবসের রাজ্য স্তরের অনুষ্ঠান পালিত হল। একইসঙ্গে প্রতিটি জেলায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হন আরও ৫০ লক্ষ উপভোক্তা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় মন্ত্রী মালতী রাভা রায় এবং নানা ক্ষেত্রের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি। ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল মহিলারা।
এদিনের ভিডিয়ো বার্তায় মোদিজি বলেন, ‘বাংলার মানুষের একটা বড়ো কষ্ট ছিল যে বিগত বছরগুলিতে কেন্দ্রের অনেক স্কিম এরাজ্যে চালু ছিল না। এখন বিজেপির সরকার তৈরি হওয়ায় সেই যোজনাগুলি এখানে নতুন করে এখানে চালু হচ্ছে। কেন্দ্রের তরফে আমরাও প্রচুর সাহায্য করছি। যেমন ৫০ লক্ষের বেশি গরিব পরিবার পিএম আবাস যোজনায় ঘর পাচ্ছে। এছাড়া চালু করা হয়েছে পিএম বিশ্বকর্মাসহ আরও অনেক কেন্দ্রীয় স্কিম।’
অন্নপূর্ণা যোজনা বাংলার মহিলাদের আর্থিক সক্ষমতা দেবে বলেই তাঁর বিশ্বাস। জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এবছর ৪ মে বাংলায় এক পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই যাত্রায় বাংলার মা-বোনেদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তাই আমরা যে মূল মন্ত্র নিয়ে চলেছি তা হল—‘কথা কম, কাজ বেশি’। আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে একজন মহিলাও অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বঞ্চিত না-হন।’
এদিন মুখ্যমন্ত্রীও ফের একবার জানিয়ে দেন, ‘প্রতিবছর আজকের দিনটি অন্নপূর্ণা দিবস হিসাবে পালন করা হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গ্যারান্টি ছিল বাংলার মহিলাদের সশক্তিকরণ। আজ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন। তাই তাঁর জন্মদিনের কথা মাথায় রেখে এই দিনটি পালন করা হবে।’ নতুন সরকারের প্রথম চারমাসে মহিলাদের জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলি তুলে ধরার পাশাপাশি ‘নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান শুভেন্দু।