নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনা সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯৮ সালে যে তৃণমূল কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি সেই দলেরই নামকরণ এবং প্রতীক আপাতত বন্ধ ঘরে পাঠিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসার পরই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে মমতা তৃণমূল। নির্বাচন কমিশনের অর্ডার হাতে পাওয়ার পরে আইনজীবীদের সঙ্গে রাতেই এক প্রস্ত আলোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তিনি রণকৌশল তৈরি করছেন। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ আমরা মানতে পারছি না। ওই অর্ডারে এমন একাধিক পয়েন্ট রয়েছে যা বাস্তবসম্মত নয়। তাই পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের আলাপ আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে গভীর রাতে কলকাতায় ফেরেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়েই তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। এই সিদ্ধান্ত থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, তৃণমূলে এতদিন পর্যন্ত প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মতো কাজ হত। অর্থাৎ একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হত। দলের অন্য নেতা-কর্মীদের কোনো গুরুত্ব দেওয়া হত না। তাদের মতামত শোনা হত না। আমরা আমাদের কার্যকরী কমিটির বৈঠকে সকলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত নেব না।
এনিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, এ রাজ্যে বিজেপিকে আনার জন্য দায়ী তৃণমূল। আবার তৃণমূল এখন বিজেপিতে নয় তিন-চার ভাগে। এটা হওয়ার ছিল। বিষয়টি নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেনুগোপাল। তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্যে অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলের পর এবার গভীর রাতে মোদিজিকে জন্মদিনের উপহার দিলেন জ্ঞানেশ কুমার।’ একইসুরে কংগ্রেস নেতা পবন খেরার কটাক্ষ, সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা থেকে সরে এসে নির্বাচন কমিশন যা করেছে, তা অত্যন্ত অন্যায়। অন্যদিকে, সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব বলেন, ‘একটা কথাই স্মরণ করাতে চাই, নির্বাচন কমিশন যদি সাংবিধানিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তারই সম্মান বৃদ্ধি পাবে।