নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকাল থেকেই কলকাতা পুরসভা ও দমকলের আধিকারিকরা ‘সক্রিয়’। পুরসভার আধিকারিকরা দক্ষিণ কলকাতার একাধিক খাবারের দোকান, রেস্তরাঁয় হানা দেন বৃহস্পতিবার। দমকলের আধিকারিকরা বিভিন্ন শপিং মলে গিয়ে ফায়ার অ্যালার্মের অবস্থা কোথায়, কেমন, তা পর্যবেক্ষণ করেন।
এদিন শহরের একটি শপিং মলে স্মোক অ্যালার্ম ও ফায়ার অ্যালার্মের সামনে ধূপকাঠি ধরা হয়। কিন্তু অ্যালার্ম বাজেনি। ফায়ার অডিটে বেরিয়ে শহরের এক নামী শপিং মলে এমনই অভিজ্ঞতা হয় দমকল আধিকারিকদের। শুধু তাই নয়, শহরের তথাকথিত অভিজাত এলাকা হিসাবে চিহ্নিত ওই অঞ্চলের শপিং মলের হোস পাইপ দমকলের পরিদর্শনের সময় কাজ করেনি। যা দেখে রীতিমতো মাথায় হাত দমকল কর্তাদের। বেসমেন্ট থেকে ছাদ পর্যন্ত একাধিক জায়গায় কোথাও হোস পাইপ কাজ করেনি বলে অভিযোগ। ফায়ার এস্টিংগুইশারের মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে। আবার, নিউ মার্কেট অঞ্চলে প্রায় দু’দশক ধরে চলা একটি মার্কেট প্লাজায় ফায়ার অডিট করতে গিয়ে কোনো নথিপত্রের হদিশ মেলেনি বলে অভিযোগ। এদিন আবার গোলপার্ক সংলগ্ন একটি প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকানে গিয়ে দেখা গেল, নিমকির সিলড প্যাকেটের ভিতরে পাখির পালক। সেখান থেকে আরও একটি নামকরা রেস্তরাঁয় ঢুকে বিরিয়ানি পরীক্ষা করা হয়। তবে সেখানে মাটির পাত্রে থাকা একের পর এক ফিরনি ফেলে দিতে হল ডাস্টবিনে। মিষ্টির দোকানের অদূরে রান্নাঘরে গিয়ে রীতিমতো বিরক্তি প্রকাশ করেন পুরসভার আধিকারিকরা। অভিযোগ, মিষ্টির দোকানের রান্নাঘরের যথাযথ লাইসেন্স দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। মিষ্টির গায়ে ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট লেখা নেই বলে অভিযোগ ওঠে। মিষ্টি, বিরিয়ানির পর ওই এলাকারই একটি বাঙালি খাবারের দোকানে যান আধিকারিকরা। তারপর মোমোর দোকানেও হানা দেন তাঁরা। নিউ মার্কেটে একটি মার্কেট প্লাজায় অভিযানে গিয়ে চোখ মাথায় উঠেছে দমকল আধিকারিকদের। প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে নিউ মার্কেটে এই ভূগর্ভস্থ মার্কেট প্লাজা চালু হয়। সেখানে প্রায় ২০০টি দোকান রয়েছে। প্রায় ২৮ বছর পুরানো এই প্লাজার নথিপত্র চাইতে গিয়ে হতবাক আধিকারিকরা। পুরানো মার্কেট হলেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সংক্রান্ত নথিপত্র মেলেনি। পরিদর্শনের পর সিমপার্ক মলের ২২টি এয়ার হ্যান্ডলিং সিস্টেম খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র