নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর:—‘তোর টাকা ঢুকল কি?’ বছর পঁচিশের বধূকে প্রশ্ন করলেন প্রৌঢ়া পিসি শাশুড়ি। কারণ, তাঁর না আছে স্মার্টফোন, না জানেন ব্যালান্স চেক করতে। বুঝতেই পারছেন না, টাকা ঢুকেছে কি না! তাই বউমার দ্বারস্থ। বউমা অবশ্য স্মার্ট। তাঁর ফোনও স্মার্ট। কিছুক্ষণ আগে চা খেয়ে পেমেন্ট করেছেন ইউপিআইতে। সঙ্গে সঙ্গে টাচস্ক্রিনে আঙুল। ব্যালান্স চেক। না, এখনো ঢোকেনি!
পাশে দাঁড়িয়ে ব্যালান্স চেক করেছিলেন আরও দুই মহিলা। দুজনের হাতেই স্মার্টফোন। ‘যাক বাবা, আমার ঢুকে গিয়েছে!’ উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে উঠলেন একজন। অন্যজনের ফোন তখন বাফারিং করছে। নেটওয়ার্ক সমস্যা। কিছুক্ষণ পরই অবশ্য পেলেন ‘ক্রেডিটেড’ মেসেজ! ‘তিন হাজারি স্বস্তি’। তবে, শুধু এই জনা চার মহিলা নন। অন্নপূর্ণা দিবসে প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের সময়ও বারবার ব্যালান্স চেক করছিলেন একঝাঁক ‘অন্নপূর্ণা’!
দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সল্টলেক করুণাময়ীর বইমেলা প্রাঙ্গণে ‘অন্নপূর্ণ দিবস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় হাজারখানেক বাসে করে এসেছিলেন ৫১ হাজার মহিলা উপভোক্তা। ভিড়ে থিকথিক করছিল বইমেলা প্রাঙ্গণ। মঞ্চে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক সহ বিশিষ্টজনরা। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিয়ো বার্তার ভাষণ চালানো হয়। সভাস্থলে টাঙানো হয়েছিল বড়ো বড়ো জায়ান্ট স্ক্রিন। তবে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময়ও কয়েকশো মহিলা সভাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন।
বইমেলা প্রাঙ্গণের বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ব্যালান্স চেক করেছিলেন অনেকেই। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের সময়ও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। এক্ষেত্রে অনেকে আবার বেরিয়েই যাচ্ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে ভিড় যাতে পাতলা না-হয়, তার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে পুলিশকেও। মোদির জন্মদিনে অন্নপূর্ণাদের দেওয়া হয়েছিল ঝালমুড়ির প্যাকেট। যাঁরা টাকা ক্রেডিটের মেসেজ পেয়েছেন, কিংবা ব্যালান্স চেক করে স্বস্তি পেয়েছেন, তাঁরা ঝালমুড়ির প্যাকেট খুলে মনের আনন্দে ছুড়েছেন হাসিমুখের দিকে। আর যাঁরা পাননি, তাঁদের হাতেই ছিল ধরা আস্ত প্যাকেট! -নিজস্ব চিত্র