সুকান্ত বসু, কলকাতা: প্রথা মেনে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন হয় রান্না পুজো। এই পুজো মনসা পুজোরই একটি অঙ্গ। তবে অনেকে অরন্ধন পুজো হিসাবেও গণ্য করেন। আবার কেউ বলেন, উনুন পুজো। ভাদ্র মাসের শেষে বাঙালি পালন করে এই বিশেষ আচার। স্বামী জ্ঞানলোকানন্দ বলেন, ‘বাংলার এই প্রাচীন পুজোয় লাগে শালুকের ডাঁটা ও মনসা গাছের পঞ্চমুখী ডাল। রান্নাঘর পরিষ্কার করে শুদ্ধ পোশাকে আলপনা দিয়ে মনসার ঘট স্থাপন করে পুজো করতে হয়। অনেকে নিত্য যে উনুনে রান্না করেন সেই উনুন এদিন ভক্তিভরে পুজো করেন।’ স্বামী সারদাত্মানন্দ বলেন, ‘এই পুজোর মূল বৈশিষ্ট্য হল, কোনো কিছু রান্না করা হয় না। উনুন জ্বালানো নিষেধ। তাই একে অরন্ধন বলা হয়। আর সে কারণেই অরন্ধন পুজো বলা হয়ে থাকে। এই পুজোর ভোগ বিশ্বকর্মা পুজোর আগের দিন রাতে রান্না করে রাখা হয়। তা রান্না প্রসাদ হিসাবে পুজোয় নিবেদন হয়।’ স্কুলশিক্ষক সঞ্জীবকুমার ঘোষ বলেন, ‘রান্না পুজোয় পান্তাভাত একটি অন্যতম পদ। তবে ক্ষেত্রবিশেষে পুজোয় কেউ আমিষ, কেউ নিরামিষ পদ নিবেদন করেন। তালিকায় থাকে একাধিক পদ। আমিষের ক্ষেত্রে ইলিশ, কাতলা, চিংড়ি মাছ প্রভৃতি। আর নিরামিষের তালিকায় থাকে কচুর শাক, পাঁচরকম ভাজা, শাক চচ্চড়ি, ছ্যাঁচড়া ও বিভিন্ন রকমের তরকারি। কোথাও কোথাও দেওয়া হয় জলপাই ও চালতার চাটনি। নানা ধরনের মিষ্টি।’ লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত সুলতা সরকার বলেন, ‘একসময় অনেকে রান্না পুজোয় বাড়িতে মিহিদানা, লেডিকেনি, দরবেশ, মালপো তৈরি করতেন। বাড়িতে পাতা হত দই। কিন্তু এখন এই সমস্ত মিষ্টি বাইরে থেকে কিনে আনা হয়।’ উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুরের বাসিন্দা প্রবীণ বুদ্ধদেব বক্সি বলেন, ‘একসময় রান্না পুজো ঘিরে বাড়তি উৎসাহ‑উদ্দীপনা দেখা যেত। প্রতিটি বাড়িতে দুপুরে আত্মীয়স্বজনরা আসতেন। একসঙ্গে বসে খাওয়া‑দাওয়া হত। সবমিলিয়ে ছিল বাড়তি আনন্দ। এখন সেসব কমেছে।’-নিজস্ব চিত্র



