নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাদেশে চালের আকাল দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেখানে ভারত বিরোধিতা চললেও ৫ লক্ষ টন চাল এদেশ থেকেই আমদানি করবে বাংলাদেশ। অবাধ আমদানির জন্য তারা শুল্ক বা মাশুল ৬৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করেছে। আমদানি শুল্ক কমতেই দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে চাল পাঠানো শুরু হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে রাজ্যে চালের খোলাবাজারের দামে। চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দু-একদিনের মধ্যে প্রতি কুইন্টাল চালের দাম ১০০-১৫০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। বেঙ্গল রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, যে স্বর্ণ চালের দাম পাইকারি বাজারে কুইন্টাল পিছু ছিল ৩১০০ টাকা। তা সোমবার বেড়ে ৩২০০ টাকা হয়েছে।
কয়েকমাস আগে ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে চাল আমদানি করেছিল বাংলাদেশ। তখনও আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেদেশে চালের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার পর ফের আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তারপর ভারত থেকে চাল রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। খরিফ মরশুমে ধান লাগানোর প্রক্রিয়া চলার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার আশঙ্কা করছে সেদেশে ধান উৎপাদন কম হতে পারে। তাই ফের ৫ লক্ষ টন চাল ভারত থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের সিদ্ধান্ত যে বাংলাদেশ সরকার নিতে চলেছে তা এদেশের ব্যবসায়ী মহল আগেই আন্দাজ করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল। বাংলাদেশ সরকার আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিতেই চাল রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশে স্বর্ণ, মিনিকিট, বাঁশকাঠি প্রভৃতি জাতের সিদ্ধ চাল মূলত খাওয়া হয়। এই ধরনের সিদ্ধ চাল দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই মূলত বেশি উৎপাদন হয়। তাই বাংলাদেশে যে চাল যাবে তার বেশিরভাগটাই এরাজ্যের বলে মনে করছে ব্যবসায়ী মহল। সীমান্ত পেরিয়ে স্থলপথে এখান থেকে চাল পাঠানোর সুবিধা আছে। পরিবহণ খরচও কম পড়ে। গতবার তেলেঙ্গানা থেকে কিছু পরিমাণ চাল জাহাজে করে বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়েছিল। এবারও সেটা হতে পারে। তবে তা পশ্চিমবঙ্গের মতো এত বেশি হবে না। নতুন ধান উঠতে এখনও কয়েকমাস দেরি আছে। এই অবস্থায় বেশি পরিমাণে চাল রপ্তানি খোলা বাজারে তার প্রভাব পড়বে। বিদেশে চাল রপ্তানির উপর একসময় কেন্দ্রীয় সরকার মাশুল বসিয়েছিল। লোকসভা ভোটের পর সেই মাশুল তুলে দেওয়া হয়েছে।