Bartaman Logo
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সামাজিক বৈষম্যের তীব্র বিরোধী ছিলেন অশোক সিঙ্ঘল

অশোক সিঙ্ঘল ছিলেন এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। আধ্যাত্মিক সাধনা, সাংস্কৃতিক জাগরণ এবং দীর্ঘ কয়েক দশকের নিবেদিত সাংগঠনিক কর্মযজ্ঞকে একসূত্রে গেঁথেছিলেন তিনি।

সামাজিক বৈষম্যের তীব্র বিরোধী ছিলেন অশোক সিঙ্ঘল
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নরেন্দ্র মোদি: অশোক সিঙ্ঘল ছিলেন এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। আধ্যাত্মিক সাধনা, সাংস্কৃতিক জাগরণ এবং দীর্ঘ কয়েক দশকের নিবেদিত সাংগঠনিক কর্মযজ্ঞকে একসূত্রে গেঁথেছিলেন তিনি। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন শুরু হচ্ছে। অশোকজির সান্নিধ্যলাভ এবং তাঁর স্নেহ পাওয়ার সুযোগ আমার অসংখ্যবার হয়েছে। এদিক থেকে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। সমাজের প্রান্তিক মানুষের জন্য তাঁর মন সর্বদা চিন্তামগ্ন থাকত। দেশের কোনো অংশ যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ত, তখন অশোকজি হয় সবার আগে সেখানে পৌঁছাতেন, অথবা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য কার্যকর্তাদের নির্দেশ দিতেন। ২০০১ সালের কচ্ছ ভূমিকম্পের পরবর্তী সময়ে তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার কাছে অবিস্মরণীয়!

Advertisement

অপরের জন্য জীবন উৎসর্গ করার আকাঙ্ক্ষাই অশোকজিকে আরএসএস-এর পথে নিয়ে আসে। রাম জন্মভূমি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ না করলে তাঁর সম্পর্কে আলোচনা অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। ১৯৯১ সালের বোট ক্লাব র‍্যালিতে সেই বক্তৃতার কথা কে ভুলতে পারে? অথবা আন্দোলনের চরম মুহূর্তে আহত ও রক্তাক্ত অশোকজির সেই অবিস্মরণীয় দৃশ্য? আজ অযোধ্যায় রাম মন্দির গড়ে উঠতে দেখলে তিনি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতেন। অশোক সিঙ্ঘলজির চিন্তাধারা ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ ও স্পষ্ট—আমাদের সমাজকে হতে হবে সম্প্রীতিপূর্ণ। এবং ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তাটিকে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি আজীবন সামাজিক ঐক্য ও সাম্য সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কাজ করে গিয়েছেন। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে সমাজে কোনো ধরনের ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। প্রতিটি ব্যক্তি সমান মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী। তাঁর ভাবনা ছিল যে, অযোধ্যার রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বিহারের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি তথা ভিএইচপি-র একজন তৃণমূল স্তরের কর্মী কামেশ্বর চৌপল। কাশীতে আয়োজিত এক ‘ধর্ম সংসদ’-এ তিনি ‘ডোম রাজা’-কে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত নেন। বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে তাঁর সঙ্গে কাজও করেন।
বারাণসীর সাংসদ হিসেবে আমি অত্যন্ত গর্বিত যে, আমি যে শহরের প্রতিনিধিত্ব করি- সেই চিরন্তন কাশী  অশোক সিঙ্ঘলজির জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি ‘একল বিদ্যালয়’ উদ্যোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন; এই উদ্যোগটি প্রত্যন্ত গ্রামে, বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করত। তিনি যেমন প্রচুর পড়াশোনা করতেন, তেমনই ভালো শ্রোতাও ছিলেন; তিনি সর্বদা তরুণ কর্মীদের যথাসম্ভব পড়াশোনা করার পরামর্শ দিতেন। অশোকজির জন্মশতবর্ষে আসুন আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে তাঁর স্বপ্নগুলিকে বাস্তবায়িত করার শপথ নিই। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ