নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, আরামবাগ, মেদিনীপুর ও সংবাদদাতা, খড়গপুর: দিনের বেলা সভা-সমিতি, মিটিং-মিছিল থেকে শান্তির সুধা বর্ষণ! আর রাত নামলেই জেলায় জেলায় শুরু তাণ্ডব! সব ক্ষেত্রেই অভিযোগের তির শাসক বিজেপির দিকে। রাজ্যের নবগঠিত সরকারের বয়স যত বাড়ছে, ততই যেন স্পষ্ট হচ্ছে এই প্রবণতা। কোথাও ভাঙা হচ্ছে বামেদের একের পর এক পার্টি অফিস, কোথাও তৃণমূল নেতার উপর হচ্ছে প্রাণঘাতী আক্রমণ। মাঝরাতে এলাকা দাপাচ্ছে বাইক বাহিনী। বালি থেকে বেনাচাপড়া, পটাশপুর থেকে যাদবপুর—সর্বত্র এমন ঘটনার ঘনঘটা। প্রতিবাদে সোচ্চার বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, রাজ্যে ইতিমধ্যে ভরসার জায়গা নিয়েছে ভয়। যদিও যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছে শাসক দল। তাদের বক্তব্য, ‘এসব বিজেপির সংস্কৃতি নয়’।
রবিবার সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান পটাশপুরের সাউথখন্ড পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান তথা মমতাপন্থী তৃণমূলের নেতা বিজনবন্ধু বাগ। কয়েকদিন আগে দুষ্কৃতীরা তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতার নার্সিংহোমে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। এই ঘটনায় বিজেপির দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে তৃণমূল।
শনিবার রাতে যাদবপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা মমতাপন্থী তৃণমূলের নেতা দেবব্রত মজুমদারের বিজয়গড়ের বাড়িতে হামলা চলে। দেবব্রতবাবু বলেন, ‘শতাধিক দুষ্কৃতী বাইকে চড়ে এসেছিল। সবাই বিজেপির লোকজন। আমার বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। সঙ্গে অশ্রাব্য গালিগালাজ। আমার দাদাকে ধাক্কা মেরেছে।’ বাঘাযতীন ও বিদ্যাসাগর চার নম্বরের তৃণমূল পার্টি অফিসে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে ওই বাইক বাহিনীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারদের বাড়িতেও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। রাতভর তাণ্ডবের প্রতিবাদে যাদবপুরে রবিবার মিছিল করে তৃণমূল। শনিবার রাতেই যাদবপুর আনন্দপল্লিতে সিপিএমের পার্টি অফিসে হামলা, শহিদ বেদি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা, বেনাচাপড়া ইত্যাদি এলাকা গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে সিপিএম-বিজেপি সংঘর্ষে। কয়েকদিন আগে রাতের অন্ধকারে গড়বেতার একটি সিপিএম কার্যালয়ে হামলা হয়। তারপর থেকে মার-পালটা মার চলছে বলে খবর। ১৪ জন সিপিএম কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়ালতোড় থানার পুলিশ। ওই জেলারই পিংলার জলচকে সিপিএমের বৈঠক চলাকালীন বিজেপি হামলা চালায় বলে অভিযোগ। দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। হাওড়ার বালি থেকে হুগলির গোঘাট—জায়গায় জায়গায় সিপিএমের পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে।
পরিস্থিতি নিয়ে মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘জেলায় জেলায় বিজেপির গুন্ডারাজ চলছে। পুলিশকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর প্রশ্ন, ‘এটা কি লুম্পেনদের রাজত্ব চলছে?’ তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাফ বক্তব্য, ‘পার্টি অফিস বা শহিদ বেদি ভাঙা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। পুলিশে অভিযোগ জানান।’