Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাঁশদ্রোণীতে স্কুলছাত্রের মৃত্যু ঘিরে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, আটক প্রিন্সিপাল সহ ৩

বাঁশদ্রোণীতে স্কুলের ভিতর ছাত্রের অসুস্থ হয়ে পড়া এবং তারপর তার মৃত্যুর ঘটনায় স্কুলের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বাঁশদ্রোণীতে স্কুলছাত্রের মৃত্যু ঘিরে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, আটক প্রিন্সিপাল সহ ৩
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাঁশদ্রোণীতে স্কুলের ভিতর ছাত্রের অসুস্থ হয়ে পড়া এবং তারপর তার মৃত্যুর ঘটনায় স্কুলের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ১৩ মে মহর্ষি বিদ্যামন্দিরের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আয়ূষকুমার নাথ অসুস্থ হয়ে পড়ে। সিঁড়িতে পড়ে যায়। ৮ বছরের শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কোমায় চলে গিয়েছিল শিশুটি। রবিবার এসএসকেএম হাসপাতালে ওর মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার স্কুলের বাইরে এনএসসি বোস রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। মৃতের বাবা নেতাজিনগর থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিশ গাফিলতির জেরে মৃত্যুর ধারায় মামলা রুজু করেছে। স্কুলের প্রিন্সিপাল সুস্মিতা চক্রবর্তী, শ্রেণি শিক্ষিকা ও স্কুলের হিসাবরক্ষককে আটক করা হয়েছে। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলে থাকা সিসি ক্যামেরার ছবি দেখে অভিযুক্তদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।
১৩ মে প্রথম ক্লাসেই অসুস্থ হয় আয়ূষ। শ্রেণি শিক্ষিকাকে বিষয়টি জানায় সে। অভিযোগ, তার কথায় আমল দেননি শিক্ষিকা। তারপর শেষ বেঞ্চে মাথা নীচু করে বসেছিল শিশুটি। অভিযোগ, ছুটির পর স্কুলের মহিলা সহায়ককে ব্যাগ নিতে মিনতি করেছিল আয়ূষ। কিন্তু তিনিও সাহায্য করেননি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে পুলিশ দেখেছে, মহিলা সহায়ক ব্যাগটি ছাত্রকে ফেরত দিয়ে দিচ্ছেন। তারপর ব্যাগ সমেত সিঁড়ি থেকে পড়ে যায় আয়ূষ। মাথায় গুরুতর চোট লাগে। রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ওকে প্রিন্সিপালের ঘরের সামনে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। আয়ূষের বাবা আশিসকুমার নাথ বলেন, ‘স্কুল কোনো সাহায্য করেনি। আমরা ওকে এসএসকেএমে নিয়ে যাই। যাওয়ার পথে ছেলে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। কোমায় চলে যায়। ১১ দিন কোমায় ছিল। রবিবার সকালে ওর মৃত্যু হয়েছে। স্কুল যদি সকালেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিত বা আমাদের বলত তাহলে আজ ছেলে আমাদের ছেড়ে চলে যেত না।’ লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, আয়ূষের মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছিল। সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে ছিল। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। মঙ্গলবার অভিভাবকরা জমায়েত করে স্লোগান দেন, ‘জাস্টিস ফর আয়ূষ’। স্কুলের প্রিন্সিপাল সুস্মিতা চক্রবর্তী বলেন, ‘আয়ূষ সুস্থ ছিল সেদিন। কেন ওর পরিবার স্কুলের সম্মানহানির চেষ্টা করছেন বুঝতে পারছি না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ