নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ফের শহরে বুলডোজার। এবার নিশানায় উত্তর হাওড়ার প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূলের হাওড়া জেলা সদরের প্রাক্তন সভাপতি গৌতম চৌধুরী। গঙ্গার ধারে সরকারি জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ভেঙে দেওয়া হল প্রাক্তন বিধায়কের কার্যালয়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা নাগাদ বাঁধাঘাট সংলগ্ন গঙ্গা তীরবর্তী এলাকায় বুলডোজার নিয়ে অভিযান চালায় হাওড়া পুরসভা। পুরসভার দাবি, গঙ্গার চর সংলগ্ন সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে ওই কার্যালয়টি তৈরি করা হয়েছিল। অভিযানে কার্যালয়ের বেআইনি নির্মাণ সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ালেও পুরসভার পদক্ষেপে খুশি স্থানীয় বাসিন্দাদের বড়ো অংশ। অভিযানের পর ঘটনাস্থলে ভিড়ও জমে যায়। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই কার্যালয়কে কেন্দ্র করে এলাকায় ‘দাদাগিরি’ চলত। স্থানীয় বাসিন্দা তরুণ সাহা বলেন, গঙ্গার ঘাটের পাশে পুরসভার জমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে পার্টি অফিস চলছিল। প্রশাসনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তাঁর দাবি, এবার ওই জমি সাধারণ মানুষের কাজে লাগানো হোক। অন্য এক বাসিন্দার অভিযোগ, এক সময় সেখানে মস্তানদের আড্ডা বসত এবং তোলাবাজি চলত। ফলে সাধারণ মানুষ সেখানে গিয়ে কোনো অভিযোগ জানাতে ভয় পেতেন। রাতে মদের আসর বসার অভিযোগ উঠেছে বারবার। স্থানীয়দের বক্তব্য, একারণে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ ছিল। অথচ তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের দাপটে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পায়নি গোলাবাড়ি থানা।
এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের আমলে গঙ্গার ধারে ওই বেআইনি নির্মাণ তৈরি হয়েছিল। বিজেপি নেতা রবি সাউ বলেন, ওই এলাকায় গঙ্গার ধারে একটি মন্দির রয়েছে। মন্দির সংলগ্ন অংশে তৃণমূলের বেআইনি কার্যালয় তৈরি হয়েছিল। সেটি ভেঙে দেওয়ায় মন্দিরের সামনের অংশ খালি হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে ভক্তরা এবার সেখানে ভালোভাবে যেতে পারবেন। সরকারি জমি দখল করে তৈরি হওয়া বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান জারি থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। যদিও এক সময়ের দাপুটে নেতা গৌতম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। নিজস্ব চিত্র