Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভোররাতে তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত্যু ৮ জন পূণ্যার্থীর, জখম একাধিক

শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার। তারাপীঠে পূণ্যার্থীদের ভিরও ছিল চোখে পড়ার মতো। বেশ কিছু পূণ্যার্থী আশ্রয় নিয়েছিলেন মন্দির থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বের একটি হোটেলে।

ভোররাতে তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত্যু  ৮ জন পূণ্যার্থীর, জখম একাধিক
  • ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:০২
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার। তারাপীঠে পূণ্যার্থীদের ভিরও ছিল চোখে পড়ার মতো। বেশ কিছু পূণ্যার্থী আশ্রয় নিয়েছিলেন মন্দির থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বের একটি হোটেলে। সেই হোটেলেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল ৮জন পূণ্যার্থীর। আরো বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে রামপুরহাট গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সাতসকালে এই ভয়াবহ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল সমগ্র তারাপীঠজুড়ে। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর ৪টে নাগাদ তারাপীঠ থানার অদূরে একটি হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আচমকাই আগুন লাগে। সেই সময় হোটেলের অধিকাংশ আবাসিক গভীর ঘুমে ছিলেন। ফলে আগুন ও ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই হোটেলের ভিতরে আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়। হোটেল থেকে আগুন ও ধোঁয়া বেরোতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে পুলিশ ও দমকলকে খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। হোটেলের ভিতর আটকে পড়া বহু মানুষকে যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে বাইরে বের করে আনার কাজ শুরু করেন উদ্ধারকারীরা। এরপর হোটেলের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে দগ্ধ অবস্থায় সাত জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জানা গিয়েছে অগ্নিকান্ডে মৃতদের মধ্যে আলিপুরদুয়ারের তিন যুবক রয়েছেন। তিন জনেরই বাড়ি আলিপুরদুয়ার শহরে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় আলিপুরদুয়ার শহরজুড়ে শোকের ছায়া। অগ্নিকাণ্ডে গুরুতরভাবে দগ্ধ আরও বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং কীভাবে এত দ্রুত তা হোটেলের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, বৈদ্যুতিক সংযোগে কোনও ত্রুটি ছিল কি না এবং অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ