Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

নিউটাউনে ফ্ল্যাট বুকিংয়ের নামে ৯ লাখের প্রতারণা, ৪ বছরে গাঁথা হয়নি একটিও ইট

‘স্মার্টসিটি’ নিউটাউনে নতুন ফ্ল্যাট। তাও আবার মাত্র ১৩ লাখে! কো-অপারেটিভের মাধ্যমে এলআইজি ফ্ল্যাট হস্তান্তর। তাই এত সস্তা!

নিউটাউনে ফ্ল্যাট বুকিংয়ের নামে ৯ লাখের প্রতারণা, ৪ বছরে গাঁথা হয়নি একটিও ইট
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘স্মার্টসিটি’ নিউটাউনে নতুন ফ্ল্যাট। তাও আবার মাত্র ১৩ লাখে! কো-অপারেটিভের মাধ্যমে এলআইজি ফ্ল্যাট হস্তান্তর। তাই এত সস্তা! লিখিত চুক্তির পর টাকা দিয়েও ফেলেছিলেন এক ক্রেতা। কিন্তু কোথায় সেই ফ্ল্যাট! প্রকল্প বিশবাঁও জলে! যে প্লটের কথা বলা হয়েছিল, চার বছরে সেখানে একটি ইটও গাঁথা হয়নি! ওই ক্রেতা বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারিত হয়েছেন। খোয়া গিয়েছে কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের ৯ লক্ষ টাকা। প্রোপ্রাইটরের ঠিকানায় গিয়ে দেখেন, অফিস বন্ধ। প্রোপ্রাইটরের দেওয়া বাড়ির ঠিকানাও ভুল। অগত্যা প্রতারিত ক্রেতা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। শুক্রবার নিউটাউনের টেকনোসিটি থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। যাবতীয় নথিপত্রও জমা দিয়েছেন। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারিত ক্রেতা একটি ইউটিউব চ্যানেলে বিজ্ঞাপনমূলক ভিডিও দেখেছিলেন। সেখানে নিউটাউনে ফ্ল্যাট এবং প্লট বিক্রির কথা বলা হয়েছিল। ওই ভিডিয়োতে একজনের নাম এবং মোবাইল নম্বর শেয়ার করা হয়। যাকে একটি নির্মাণ সংস্থার প্রোপ্রাইটর বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতারিত ক্রেতা ওই ভিডিও দেখে ফ্ল্যাট কেনার জন্য যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, প্রোপ্রাইটর তাঁকে জানান, অ্যাকশন এরিয়া ৩বি-তে একটি কর্নার প্লট রয়েছে, যা হিডকোই বণ্টন করেছে। কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির মাধ্যমে সেখানেই এলআইজি ফ্ল্যাট হবে। ওই প্রোপ্রাইটর আরও জানায়, সে ওই কো-অপারেটিভ এর ‘অ্যাটর্নি’। শেয়ার ট্রান্সফারের মাধ্যমে সে একটি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে পারবে। ওই ক্রেতা তখন তাঁর কাছে নথিপত্র দেখতে চান। তবে সে ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’র কোনও নথিপত্র দেখাতে পারেনি। কিন্তু অভিযুক্তের উপস্থাপন এতটাই বিশ্বাসযোগ্য ছিল যে ওই ক্রেতা ‘টোপ’ গিলে নেন। ২০২২ সালে ফ্ল্যাট সংক্রান্ত বিষয়ে ক্রেতার সঙ্গে ‘অ্যাটর্নি’র  চুক্তিও হয়। ফ্ল্যাটের মোট দাম ধার্য করা হয়েছিল ১৩ লক্ষ টাকা। চুক্তির পর কয়েক দফায় ক্রেতা মোট ১১ লক্ষ টাকা দিয়ে ফেলেন। অভিযোগ, ওই টাকা নেওয়ার পরই চুপচাপ হয়ে যায় প্রোপ্রাইটর তথা ‘অ্যাটর্নি’। জি প্লাস ফোর বিল্ডিং হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই চার বছরে একটি ইটও গাঁথা না হওয়ায় তাঁর সন্দেহ তীব্র হয়। এরপর তিনি সশরীরে দেখা বা ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যতবারই যোগাযোগ করেছেন, মিলেছে শুধু প্রতিশ্রুতি। অবশেষে তার কাছে টাকা ফেরত চান ওই ক্রেতা। তারপর ২ লক্ষ টাকা ফেরত পেলেও ৯ লক্ষ টাকা আর পাননি।
নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া ১সি-তে ওই প্রোপ্রাইটরের অফিসে যান। গিয়ে দেখেন, তালাবন্ধ রয়েছে। জানতে পারেন, ২০২৩ সাল থেকে ওই অফিস বন্ধ। প্রোপ্রাইটর অ্যাকশন এরিয়া ১ই-তে আরও একটি অফিসের ঠিকানা দিয়েছিল। সেটিও ভুয়ো ঠিকানা। সেখানে কোনও অফিসই ছিল না! তখন তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ