নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে ২৭ লক্ষেরও বেশি। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম তিন মাসেই সংখ্যাটি তিন লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ ১৫ মাসে প্রায় ৩১ লক্ষ। ‘অটো ক্লেম’ সেটলমেন্ট দূরের কথা! সাধারণ ক্লেম সেটলমেন্ট করতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মী পিএফ (ইপিএফ) গ্রাহকদের একটি বড় অংশকে। কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠনের (ইপিএফও) একের পর এক ক্লেম বাতিলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ইপিএফ গ্রাহকরা। সংসদে মোদি সরকারের খতিয়ান থেকেই এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। সোমবার ইপিএফওর ক্লেম বাতিল সংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত প্রশ্ন করেন লোকসভায় কংগ্রেসের তিনজন সাংসদ বিজয়কুমার ওরফে বিজয় বসন্ত, মনিকম টেগোর এবং সুরেশ শেঠকার। জবাবে এদিন কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে উল্লিখিত খতিয়ান পেশ করেছেন।
ওই পরিসংখ্যানেই দেখা যাচ্ছে, ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে ইপিএফওর ক্লেম বাতিলের সংখ্যা ২৭ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩২৮টি। চলতি ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের প্রথম কয়েকমাসেই তা ৩ লক্ষ ২৯ হাজার ৮৪টি। অর্থাৎ, সবমিলিয়ে সংখ্যা ৩০ লক্ষ ৯৫ হাজার ৪১২টি। এদিন কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, যথাযথভাবে নথিপত্র জমা না দেওয়ার কারণেই ক্লেম বাতিলের এই ঘটনা। এর জন্য মূলত ব্যাঙ্কের চেক বুক কিংবা পাস বইয়ের ছবি ঠিকমতো আপলোড করতে না পারাকেই দায়ী করা হয়েছে। তবে একইসঙ্গে মন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ৩ এপ্রিল থেকে ইপিএফও ক্লেমের ক্ষেত্রে আর ব্যাঙ্কের চেক কিংবা পাস বইয়ের ছবি আপলোড করতে হচ্ছে না। সেই নিয়ম প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ফলে ক্লেম বাতিলের সংখ্যাও অনেকটাই কমেছে। এদিকে, ই-শ্রম পোর্টালে চা শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে লোকসভায় বিজেপির সাংসদ জয়ন্ত রায় প্রশ্ন করেন। এর জবাবে কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ২২ জুলাই পর্যন্ত ই-শ্রম পোর্টালে ৩০ কোটি ৯৫ লক্ষেরও বেশি অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক নাম নথিভুক্ত করেছেন। এর মধ্যে জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন চা বাগানের ১৭ হাজার ৩৩৭ জন শ্রমিকও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ‘ওয়ান নেশন ওয়ান রেশন কার্ড’-এর গ্রাহক সংখ্যাই সবথেকে বেশি। মোট ১৩ হাজার ৬৯৫ জন। ‘প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা’র আওতায় রয়েছেন ৫ হাজার ৩৭৩ জন। ১০০ দিনের কাজ বা নারেগায় আওতাভুক্ত জলপাইগুড়ির ৪ হাজার ৮৯৬ জন চা শ্রমিক। অন্যদিকে, সোমবার লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে শোভা করন্দলাজে জানিয়েছেন, শ্রম কোডে দেশের ‘গিগ’ কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন অনলাইন ডেলিভারি কর্মীরা ‘গিগ’ কর্মী হিসেবে পরিচিত।